খাড়া পাহাড়, দীর্ঘ সিঁড়ি আর দুর্গম পথ, চন্দ্রনাথের চূড়ায় ওঠা যেন এক কঠিন পরীক্ষা। বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম তীর্থযাত্রীদের জন্য এই পথ আরও দুরূহ। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই ভোগান্তি কমাতে এবার চন্দ্রনাথ পাহাড়ের নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত লিফট স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ। একই সঙ্গে মন্দিরে ওঠার সিঁড়িগুলো আধুনিকায়ন ও নিরাপদ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সীতাকুণ্ডে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসলাম চৌধুরী এ প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, চন্দ্রনাথ ধাম শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান নয়, পাহাড়, বন, মন্দির ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়। কিন্তু দুর্গম যাতায়াতব্যবস্থার কারণে চন্দ্রনাথের পর্যটন সম্ভাবনার বড় একটি অংশ এখনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
আসলাম চৌধুরীর প্রস্তাব হলো, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত লিফট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া। তাঁর মতে, এতে বয়স্ক ও অসুস্থ তীর্থযাত্রীদের চূড়ায় ওঠার কষ্ট কমবে। পাশাপাশি সাধারণ পর্যটকদের জন্যও চন্দ্রনাথ হয়ে উঠবে আরও সহজপ্রাপ্য।
তবে প্রস্তাবিত লিফট এখনো কোনো অনুমোদিত কিংবা বাস্তবায়নাধীন সরকারি প্রকল্প নয়। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের আগে এর কারিগরি ও পরিবেশগত সম্ভাব্যতা যাচাই জরুরি। পাহাড়ের স্থিতিশীলতা, ভূমিধসের ঝুঁকি, জীববৈচিত্র্য, বিদ্যুৎ সরবরাহ, জরুরি অবস্থায় যাত্রী উদ্ধারের ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অর্থায়ন, সব বিষয়ই বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে চন্দ্রনাথের ধর্মীয় পবিত্রতা ও ঐতিহ্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
চন্দ্রনাথকে ঘিরে শুধু লিফট নির্মাণ নয়, নিরাপদ সিঁড়ি, পর্যটকদের চলাচলের সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন আসলাম চৌধুরী। তাঁর মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন করা গেলে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকেও পর্যটক আকৃষ্ট করা সম্ভব। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, সীতাকুণ্ডের পাহাড়, সমুদ্র, বন ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন পরিকল্পনা নিতে হবে। চন্দ্রনাথকে কেন্দ্র করে আধুনিক ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে সীতাকুণ্ডের পর্যটন অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে। জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে আসলাম চৌধুরী অন্যায়, অত্যাচার ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে দাঁড়ানো এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।