আইনের ফাঁকে মাদক ব্যবসায়ী-ছিনতাইকারীরা বারবার বেরিয়ে আসে: আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
আইনের ফাঁকে মাদক ব্যবসায়ী-ছিনতাইকারীরা বারবার বেরিয়ে আসে: আইজিপি
ছবি : সংগৃহীত

আইনের সীমাবদ্ধতা ও ফাঁকফোকরের কারণে মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা সম্ভব হয় না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনলেও আইনি প্রক্রিয়ায় তারা জামিনে বের হয়ে আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমার শহর, আমার দেশ, পরিচ্ছন্নতায় বদলে যায় বাংলাদেশ’ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, মাদক ও ছিনতাইবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করছে পুলিশ। এসব অভিযানে অনেক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়। তবে আইনের কিছু সীমাবদ্ধতা ও ফাঁকফোকরের কারণে তাদের দীর্ঘ সময় আটক রাখা যায় না। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তারা আবারও বাইরে এসে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, শুধু পুলিশের পক্ষে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম। প্রায় এক হাজার মানুষের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাই অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক এখন নানা আকর্ষণীয় নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসবকে এনার্জি ট্যাবলেটের মতো করে উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং সন্তানদের মাদকের ক্ষতি সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই বোঝাতে হবে।

নিজের পুলিশি জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদকের টাকা না দেওয়ায় এক সন্তান তার বাবাকে মারধর করেছে, এমন ঘটনাও তিনি দেখেছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে পরিবার ও সমাজকে রক্ষা করতে শুরু থেকেই সচেতনতা বাড়াতে হবে।

আইজিপি বলেন, পুলিশকে জনবান্ধব ও মানুষের কাছে সহজে পৌঁছানো যায় এমন বাহিনী হিসেবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমন ও সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় জনগণের অংশগ্রহণও বাড়াতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। শুধু প্রচারের জন্য নয়, বাস্তবে পরিবর্তন আনতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করার আহ্বান জানান আইজিপি। রাজধানীর বায়ুদূষণ কমাতে বেশি করে গাছ লাগানো এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদেরও পরিবেশ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান আইজিপি। পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই শিশুদের রাস্তা পারাপার ও সড়কে চলাচলের নিয়ম শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা এবং সিটি করপোরেশনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এটি শুধু গাছ লাগানোর কর্মসূচি নয়, এর সঙ্গে জনসচেতনতা তৈরির বিষয়টিও যুক্ত রয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং ও কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে এ কার্যক্রম ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নের মাধ্যমে রাজধানীকে আরও বাসযোগ্য করে তুলতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। ঢাকাকে নিজের শহর হিসেবে ভালোবাসলে পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে শহর বদলানোর আগে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। বায়ুদূষণের কারণে ঢাকা প্রায়ই বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় উঠে আসে। তাই যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

আবদুস সালাম আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের রাজধানীর ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারবে এবং শহরের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা বাড়বে।

তিনি বলেন, পুলিশ রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে নাগরিকদের জন্য কাজ করছে। শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রয়োজন। রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করতে এ দায়িত্ব শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, সবার।

শিশুদের শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিতর্ক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। দেশের বিভিন্ন স্থান ও ইতিহাস সম্পর্কে তাদের জানার সুযোগ তৈরি করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় কমিউনিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে