ভিডিও কলে প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলার পর তরুণীর আত্মহত্যা

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম; বাবুগঞ্জ, বরিশাল) : | প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
ভিডিও কলে প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলার পর তরুণীর আত্মহত্যা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর বাহেরচর গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লামিয়া (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর ঢাকায় আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমের সম্পর্কের জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা ২ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার দাফন সম্পন্ন করেন। নিহত লামিয়া উত্তর বাহেরচর গ্রামের অসুস্থ ও শয্যাশায়ী আলী হায়দারের মেয়ে। তিনি এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করতেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, একই এলাকার আলাউদ্দীন আকনের ছেলে সুমন আকন (২৫)-এর সঙ্গে প্রায় তিন বছর ধরে লামিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সুমন বর্তমানে সরকারি চাকরিতে কর্মরত বলে পরিবার জানিয়েছে। নিহতের ছোট ভাই কাওসার অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুমনের সঙ্গে তার বোনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত দেখা করতেন এবং বিষয়টি সুমনের পরিবারও জানত। তবে সুমন সরকারি চাকরি পাওয়ার পর থেকে লামিয়াকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন তিনি। লামিয়ার ভাই কাওসারের দাবি, সম্প্রতি সুমনের মা ও বোন লামিয়াকে মারধরও করেন। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পরে তা থেকে সরে আসা এবং মানসিকভাবে চাপ দেওয়ার কারণেই তার বোন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিহতের বড় খালা জহুরা বেগম বলেন, “লামিয়া এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তার কয়েকজন সহপাঠী প্রথমে ফোন করে লামিয়ার আত্মহত্যার খবর জানায়। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে লামিয়াকে সুমন নামের এক ছেলের সঙ্গে অতিরিক্ত ফোনে কথা বলতে এবং কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে।  একই বাড়ির ইউপি সদস্য মজিবর আকন বলেন, সংসারের বড় মেয়ে হওয়ায় লামিয়া অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে পরিবারকেও সহযোগিতা করতেন। তার বাবা কয়েক বছর ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী থাকায় পরিবারের ওপরও তার দায়িত্ব ছিল। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমন আকনের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের জানান, লামিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরবর্তীতে লামিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে