একই দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি। অথচ সেই কর্মসূচিই গড়িয়েছে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও মহাসড়ক অবরোধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও। ১ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সীতাকুণ্ড বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও নেতৃত্বের সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দলীয় বিরোধ ভুলে সবাইকে এক ছাতার নিচট্টগ্রামচে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক লায়ন মো. আসলাম চৌধুরী এফসিএ।
শনিবার সকালে সোনাইছড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের হলরুমে ১ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় আহত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। সোনাইছড়ি ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে আহত নেতাকর্মীদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজ নেন তিনি। এ সময় কারও সঙ্গে হাত মেলান, কারও কাঁধে হাত রাখেন এবং কয়েকজনকে জড়িয়ে ধরে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
আসলাম চৌধুরী বলেন, রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে দমাতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা হিংস্র পথ বেছে নেওয়া গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। হামলা, পীড়ন কিংবা নির্যাতনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী শক্তি ও চেতনাকে স্তব্ধ করা যাবে না। সবার আগে বাংলাদেশ, এই মূলমন্ত্র সামনে রেখে যেকোনো উসকানি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের ধৈর্যশীল, ধীরস্থির ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জুনিয়র পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা কিংবা ভুল বোঝাবুঝি থেকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকলে সিনিয়র নেতারা বসে তা সমাধান করবেন। দ্রুত সাংগঠনিক বৈঠকের মাধ্যমে সবাইকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ছোটখাটো মতভেদকে বড় না করে আলোচনা, পরামর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
একই দলের কর্মসূচি কীভাবে সংঘাতের দিকে গেল, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা, সাংগঠনিক কর্তৃত্ব নিয়ে মতপার্থক্য, নাকি তৃণমূলের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, ঘটনার পেছনে কোন বিষয়টি প্রধান ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সাংগঠনিক ও আইনগত অনুসন্ধানের পাশাপাশি দলের ভেতর থেকেই বিরোধ মীমাংসার দাবি জোরালো হচ্ছে। সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান আসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাস কিংবা চাঁদাবাজির কোনো স্থান থাকবে না। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আস্থাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এক প্ল্যাটফর্মে থেকে কাজ করতে হবে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে মাঠে নামতে হবে। ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। এদিকে নিজের আইনি প্রক্রিয়া ও শপথের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান তুলে ধরে আসলাম চৌধুরী বলেন, আদালতের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগে নির্দিষ্ট তারিখ বা সময় ধরে শপথের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা ঠিক নয়। আদালতের আদেশ প্রকাশের পরই পরবর্তী আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ জানা যাবে।