৪ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে নতুন গতি

মতলব-গজারিয়া ঝুলন্ত সেতু নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
মতলব-গজারিয়া ঝুলন্ত সেতু নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে দেশের অন্যতম ও অভিনব মেগা প্রকল্প-মতলব-গজারিয়া ঝুলন্ত (ক্যাবল-স্টেইড) সেতু নির্মাণকাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ভূমি অধিগ্রহণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ বিতরণের পাশাপাশি অধিগৃহীত জমি বাস্তবায়নকারী সংস্থার কাছে হস্তসের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত মোট ১১৫ জন ভূমিমালিককে আইনানুগ ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ব্যাংক হিসাব ও চেকে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ জমি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর মূল অবকাঠামো নির্মাণের ঠিকাদার নিয়োগ ও বড় পরিসরে পূর্ত কাজ শুরু হবে।

প্রকল্পের ব্যয় ও আর্থিক কাঠামো বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪ হাজার ১৭৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। পরবর্তীতে নকশার বিভিন্ন কারিগরি সংযোজন ও সার্বিক ব্যয় পর্যালোচনায় সংশোধিত প্রস্তাবে এই বাজেট বেড়ে প্রায় ৪ হাজার ৭৮৩ কোটি থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পটির বড় একটি অংশে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অর্থায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নদীর অববাহিকা ও যাতায়াতের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকল্পটি অত্যন্ত আধুনিক প্রকৌশলবিদ্যায় সাজানো হয়েছে মেঘনা-ধনাগোদা নদী ও এর সংযোগ এলাকার ওপর প্রায় ১.৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এই সেতু। এটি দেশের অন্যতম প্রধান ক্যাবল-স্টেইড বা ঝুলন্ত ধাঁচের আধুনিক সেতু হতে যাচ্ছে, যার মূল স্প্যানে থাকবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। নির্বিঘ্ন ও দ্রুত যোগাযোগের জন্য সেতুটিতে চার লেনের প্রশস্ত সড়ক রাখা হয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

মতলব উত্তর ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার মধ্যবর্তী এই সেতু নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে চাঁদপুরের সরাসরি ও সংক্ষিপ্ত সড়ক যোগাযোগের দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের ফেরি পারাপারের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন এই জনপদের মানুষ। শুধু যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং দুই পাড়ের ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি পণ্যের সহজ বিপণন এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় এখন দ্রুতই মূল নির্মাণযজ্ঞ শুরু হওয়ার অপেক্ষায় স্থানীয়রা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে