বরিশালের মুলাদীতে জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের পাতারচর লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতদের ডাকচিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সফিপুরের পাতারচর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সোবাহান সিকদারের স্ত্রী রাহিমা বেগমের (৫০) সাথে একই বাড়ির কালাম সিকদারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। কালাম সিকদার ও তার লোকজন বিধবা রাহিমা বেগমের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জমাজমি বিরোধ নিয়ে গত ৯ মে স্থানীয়ভাবে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে রাহিমা বেগমকে বাড়ির উঠানে থাকা একটি চাম্বুল গাছ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে গাছটির ক্রেতা গাছ কাটতে গেলে এতে বাধা দেন কালাম সিকদার। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কালাম সিকদারের নেতৃত্বে তার স্ত্রী ও মেয়েসহ ৮-১০জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।
হামলায় রাহিমা বেগম (৫০), তাঁর ছেলে মেরাজ সিকদার (১৭), কামাল উদ্দীনের স্ত্রী কহিনূর বেগম (৬০), সিদ্দিক হাওলাদারের স্ত্রী আনতেশা বেগম (৫০), মেয়ে শারমিন (২৩), হানিফ হাওলাদারের স্ত্রী আসমা বেগম (৪০), আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৩৫) এবং হেলাল দেওয়ানের মেয়ে কুলসুম বেগম (২৫)-সহ কমপক্ষে ১০ জন গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাহিমা বেগম বাদী হয়ে কালাম সিকদার, তাঁর স্ত্রী রাশিদা বেগম, মেয়ে জিয়াসমিন, ইয়ারুন, রুফিয়াহসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামি করে মুলাদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, ‘জমি ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’