বাগেরহাটের মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী রমজানুল হক, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাতেম আলী ও উপপরিদর্শক (এসআই) দেবেশকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আদেশে তাদের প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা গেছে।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মোল্লাহাটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা, আব্দুল হাকিম, মিরাজ ও রুবেলসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে তারা থানায় গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এর ফলে তারা ন্যায়বিচার ও প্রত্যাশিত আইনগত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তাদের আরও অভিযোগ, থানাকে কেন্দ্র করে একটি কথিত দালালচক্র সক্রিয় ছিল। ওই চক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চক্রটির সঙ্গে মাদকসেবী ও মাদক কারবারে জড়িত হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাদের অবাধ যাতায়াত ও থানার ওসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও কথিত দালালচক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন অফিসার ইনচার্জ থানার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন, কোনো ধরনের প্রভাব বা দালালচক্রের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শুনবেন এবং মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে মোল্লাহাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে-এমন প্রত্যাশা তাদের।