ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে সরকার কিছুই জানে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির সঙ্গে সরকারের কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভোটের তারিখ ঘোষণা নিয়ে কিছুই জানে না সরকার।”
এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এর মধ্যে প্রথম ধাপের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ১২ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর ভোট হতে পারে। পরবর্তী ধাপগুলোর মধ্যে চতুর্থ ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপের ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপের ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
তবে ইসির ঘোষিত তারিখগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার পরই ভোটের চূড়ান্ত দিনক্ষণ জানা যাবে।
স্থানীয় সরকার কাঠামোর পাঁচ ধরনের প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনের কথা রয়েছে। এগুলো হলো ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন। ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব নির্বাচনের মধ্যে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট আয়োজন করা হবে।
এদিকে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের ফলে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সমন্বয় কতটা হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাত ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাটি প্রাথমিক পর্যায়ের এবং আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার পরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।