বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় রেহানা বেগম (৪৫) নামে রাকুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী (ক্বারী) নিহত হয়েছেন। তিনি ওই মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা-শিকারপুর ব্রিজের ঢালের পশ্চিম পাশে রাকুদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, সকালে শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রেহানা বেগম। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’ নামের একটি বাস দ্রুতগতিতে এসে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।
খবর পেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রেহানা বেগমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবর মাদ্রাসায় পৌঁছালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে।
শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস আটক করলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।