রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার রহিমাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শ্যামলী রানী রায়ের স্বামী গোপাল চন্দ্র রায়কে কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে-এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার স্বামীকে এসএমসি সভাপতি করায় কমিটি গঠনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টিতে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের পর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন সেই মোতাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করছেন। বস্তুনিষ্ট নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন ও সন্দেহ পোষন করছেন স্থানীয় অভিযোগকারী অবিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত না করে স্থানীয় অবিভাবকদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করে তদন্তকারী কর্মকর্তারা
শুধু মাত্র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পছন্দের কমিটির লোকজন দিয়ে পক্ষপাতপুষ্ট তদন্ত করেছেন। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পরও বিতর্কিত কমিটি বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তাঁরা অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে এসএমসি গঠনপ্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং বিধি অনুযায়ী স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শ্যামলী রানী রায় ও সভাপতি গোপাল চন্দ্র রায়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাগমা সিলভীয়া কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জেলায় পাঠানো হয়েছে। আপনারা চাইলে জেলা থেকে প্রতিবেদনটি সংগ্রহ করতে পারেন। অভিযোগের সত্যতা, এসএমসি গঠনে প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে কি না-এসব বিষয় নিরপেক্ষ নিরপেক্ষ পুন: তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।