সৈয়দপুরে বাংলাদেশ উর্দুভাষী অধিকার আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে মানববন্ধন

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
সৈয়দপুরে বাংলাদেশ উর্দুভাষী অধিকার আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে মানববন্ধন

বাংলাদেশ উর্দুভাষী অধিকার আন্দোলন সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর সৈয়দপুর প্রেসক্নাবের সামনে ঘন্টাব্যাপি ওই মানববন্ধন চলে। এ সময় বক্তব্য বলেন,সৈয়দপুর উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজিদ ইকবাল। তিনি বলেন,স্বাধীনতার পরবর্তী সময় অর্থাৎ দীর্ঘ ৫৫ বছর যাবত বাংলাদেশের ৯টি জেলায় ১১৬টি ক্যাম্পে প্রায় তিন লক্ষ উর্দুভাষী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী ৮ ফুট বাই ৮ ফুটের কুঠুরি ঘরে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে। এ জনগোষ্ঠী সামাজিকভাবে ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কখনো বিহারী,কখনো আটকে পড়া পাকিস্তানি, কখনো মাওরা,কখনো রাজাকার,কখনো অবাঙালি এবং কখনো স্টেটলেস পিপল হিসেবে নামকরণের মাধ্যমে নামহীন,পরিচয়হীন অমানবিকভাবে বসবাস করতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন,এ জনগোষ্ঠীর কয়েকজন দামাল,প্রতিবাদী ও শিক্ষিত যুবসমাজ পুরাতন নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে জনগোষ্ঠীর সঠিক পরিচয় সকলের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। যার দরুন মহামান্য হাইকোর্ট ২০০৩ ও ২০০৭ সালে এক যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে এই জনগোষ্ঠীকে দেশের ভাষাগত সংখ্যালঘু তথা উর্দুভাষী বাংলাদেশী পরিচয়টি রায়ে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেন। বিজ্ঞ উচ্চ আদালত তার পর্যবেক্ষণে এ বিষয়টিও পরিষ্কার করে বলেন যে, শুধুমাত্র পাকিস্তান গমনের জন্য অপশন দিলে কিংবা একটি ফরম পূরণ করলে কারো নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না। মহামান্য হাইকোর্টের রায়ে পরিষ্কার বলা আছে যে, ক্যাম্পে বসবাসকারী সবাই বাংলাদেশের নাগরিক তাই নির্বাচন কমিশনকে আদেশ প্রদান করা হয় যে, ক্যাম্পে বসবাসরত যারা ভোটার তালিকা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করতে চান তাদের সকলকে এ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। যার প্রেক্ষিতে ২০০৮ সাল ও তৎপরবর্তী সময়ে ক্যাম্পের প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ ভোটার তালিকা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রমে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা নিজেদের পরিচয় উর্দুভাষী বাংলাদেশি হিসেবে খুঁজে পাই।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও কিছু সংগঠন বা ব্যক্তিবর্গ এখনও আটকে পড়া পাকিস্তানি' অথবা 'আটকে পড়া বিহারী,আটকে পড়া উর্দুভাষী' পরিচয় বহন করে এ জনগোষ্ঠীকে অধিকারহারা করে রাখার হীন চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে চিঠিপত্র আদান-প্রদানেও এই জনগোষ্ঠীকে 'আটকে পড়া' হিসেবে চিহ্নিত করছে যা মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ তথা আদালত অবমাননার শামিল। তারা জনগোষ্ঠীকে বিভ্রান্তির মধ্যে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাদের এহেন চক্রান্ত বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম এবং আগামী প্রজন্মের জীবনমান উন্নয়নে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এই 'আটকে পড়া' শব্দটির কলঙ্ক মোচনে এবং অনৈতিক বোঝা থেকে পরিত্রাণ পেতে আজকের  মানববন্ধন কর্মসূচি। অনতিবিলম্বে সরকারিভাবে গেজেটের মাধ্যমে সকল ক্যাম্পবাসীকে 'উর্দুভাষী বাংলাদেশি' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। আমাদের পূর্বের ঘোষিত সাত দফা দাবির মধ্যে সবচেয়ে বড় দাবি-পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি। ক্যাম্পবাসীকে প্রদেয় একমাত্র সরকারি সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ সংযোগ বহাল রাখার জন্য বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ বিভাগের বকেয়া একাংশ পরিশোধ করেছেন। তবুও বিদ্যুৎ বিভাগ ক্যাম্পবাসীকে হয়রানিমূলক বিদ্যুৎ বিচ্ছেদ আতংকে আতংকিত করে বর্তমান সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমরা জোর দাবী জানাচ্ছি পর্যায়ক্রমে বিল পরিশোধ করে জনগোষ্ঠীর 'মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন' না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বহাল তথা সরকার কর্তৃক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং দফায় দফায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন কূট-কৌশল থেকে মুক্তি প্রদান।

মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন' না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের ১১৬টি ক্যাম্পে যারা যেখানে আছেন, সেই অবস্থায় (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখাসহ সকল প্রকার উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য বলেন, ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল লতিফ, বিভিন্ন ক্যাম্পের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক,ক্যাম্পের নারী নেত্রীসহ অনেকে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে