পটুয়াখালীর বাউফলে একটি আবাসিক হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে মো. মিনহাজ খান (১১) নামে এক ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। গত রোববার দুপুরের পর উপজেলার আবু বকর সিদ্দিক (রা.) নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার হেফজ শাখা থেকে বের হওয়ার পর তার আর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি, নিখোঁজের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ মিনহাজ খান ওই মাদ্রাসার হেফজ শাখার তৃতীয় জামাতের ছাত্র। তার বাবা মো. রুহুল আমিন ওরফে ইউনুচ। তাদের বাড়ি পাশের দশমিনা উপজেলার নেহালগঞ্জ এলাকায়।
মাদ্রাসার শিক্ষক মো. বায়জিদ হোসেন বলেন, মিনহাজ এর আগেও কয়েকবার মাদ্রাসা থেকে চলে গিয়েছিল। গত রোববার দুপুরের পর সে কাউকে কিছু না জানিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি জানাতে তার বাবাকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ধারণা করে, মিনহাজ হয়তো বাড়িতে পৌঁছে গেছে। এ কারণে আর সেদিন ফোন করা হয়নি।
তিনি বলেন, সোমবার দুপুরে মিনহাজের বাবার সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ছেলে বাড়িতে পৌঁছায়নি। এরপর মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ শুরু করেন।
মিনহাজের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক বায়জিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা মনে করছি, শয়তানের ওয়াসওয়াসার কারণে সে এভাবে চলে যেতে পারে। বিশেষ তদবির দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ তাকে পাওয়া যাবে।’
নিখোঁজ ছাত্রের বাবা রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার ছেলে দুই দিন ধরে নিখোঁজ। গতকাল মাদ্রাসা থেকে ফোন করা হয়েছিল, কিন্তু আমি ফোন ধরতে পারিনি। সব সময় ফোনের কাছে থাকা হয় না। তারা আবার ফোন করবে বলে ভেবেছিলাম। পরে সোমবার দুপুর ১২টার পর ফোন করে জানতে চায়, ছেলে বাড়িতে এসেছে কি না। আমি জানাই, সে বাড়িতে আসেনি। এরপর থেকেই আমরা খোঁজাখুঁজি করছি। এখনো কোনো সন্ধান পাইনি।’
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘নিখোঁজ ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।