চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম | প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় সরকার
ছবি: সংগ্রহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলতি অর্থবছরের মধ্যে শেষ হোক, সরকার এমনটাই চায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে নির্বাচনের শুরু কবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, “সরকারের চাওয়া এই অর্থবছরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন যেন নির্বাচনগুলো শেষ করে। তবে শুরু কবে সেটা নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। আর আমি যদি শুরুটা বলে দেই, এটা নির্বাচন কমিশনের জন্য বিব্রতকর হবে।”

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। নির্বাচনের সময় হলে এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, তা বলা যাবে।

নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন পরিচালনা করবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো নিয়ে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রয়োজন হলে তারা আবারও বৈঠকে বসবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই অর্থবছরের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে সরকার প্রস্তুতি রেখেছে। নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের সিডিউল অনুযায়ী নির্বাচন শেষ করতে হবে। নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার কথাও জানান তিনি।

মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাঁচটি স্তর শেষ করতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করতে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এছাড়া ৩৩০টি পৌরসভা ও ১৩টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনও রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি হিসাব সরকারকে দিয়েছে। সে অনুযায়ী প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে প্রকৃত ব্যয় কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের জন্য ৩৭০ কোটি টাকা ছাড়ের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ, এই পাঁচ ধরনের প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই অর্থ দেওয়া হয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, রাস্তাঘাট, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের মতো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনও সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ। তাই এ খাতে ব্যয় করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ৩ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে। এ অর্থ দিয়ে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সৌর প্যানেল স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব রাজস্বের কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদগুলো হাট-বাজার থেকে ৫ শতাংশ এবং ভূমি রেজিস্ট্রেশন থেকে ১ শতাংশ আয় করে। সরকারি বরাদ্দের সঙ্গে নিজস্ব রাজস্ব যোগ করে আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও দিতে পারবে।

বরাদ্দের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে ১২০ কোটি টাকা, সিটি করপোরেশনগুলোতে ৭৫ কোটি টাকা, উপজেলা পরিষদে ৯৯ কোটি টাকা, পৌরসভায় ৬৪ কোটি টাকা এবং জেলা পরিষদে ১২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৩৭০ কোটি টাকা।

এই অর্থ কীভাবে উঠে আসবে, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করতে পারবে। এতে আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ব্যয় করা অর্থ উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মীর শাহে আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টি পরবর্তী ২০ বছর পর্যন্ত থাকবে। এই সময় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো রাজস্ব আয় করতে পারবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আয়ের বিভিন্ন উৎসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। খেয়াঘাট, হাট-বাজার, পৌর এলাকার পরিবহন চলাচলের ওপর কর, ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিংসহ বিভিন্ন খাত থেকে এসব প্রতিষ্ঠান রাজস্ব আদায় করে। এ রাজস্ব আহরণের জন্য নীতিমালাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকেও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে বিক্রি করা হলে সেটি তাদের নিজস্ব রাজস্বের উৎস হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে