আশাশুনির নয়াবাদে স্বামীর নির্মম নির্যাতনে স্ত্রী হাসপাতালে

এফএনএস (জি.এম. মুজিবুর রহমান; আশাশুনি, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
আশাশুনির নয়াবাদে স্বামীর নির্মম নির্যাতনে স্ত্রী হাসপাতালে

আশাশুনি উপজেলার নয়াবাদ গ্রামে স্বামীর নির্মম নির্যাতনে রক্তাক্ত জখম হয়ে স্ত্রী মিনতি বাছাড়কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। 

হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণাকাতর মিনতি রানীর মাতা ইন্দ্রা রাণী মন্ডল ও দাদা চন্দ্র কান্ত মন্ডল জানান, ৩০/৩৫ বছর আগে নয়াবাদ গ্রামের শ্যামল বাছাড়ের সাথে মিনমির বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পরে তাদের সংসার মোটামুটি ভালই ছিল। তাদের দুটি ছেলে ও মেয়ে সন্তান আছে। অনুমান ৮/৯ বছর পূর্বে শ্যামল পাশের এক বিধবা মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। শ্যামল এনিয়ে স্ত্রীকে গালিগালাছ ও মারপিট করতে থাকে। মারপিট এতটা বেড়ে যায় যে, বাধ্য হয়ে মিনতিকে তার পিত্রালয় ফকরাবাদ আনতে বাধ্য হয় বিধবা মা ইন্দ্রা রানী। এরপর ফকরাবাদ ও নয়াবাদের মেম্বার ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শালিস বসে। শালিসে শ্যামল নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা পায় এবং সে সংশোধন হবে বলে কথা দেয়। কিন্তু সংশোধন হয়নি বরং দেড় মাস পরে স্ত্রীর উপর আবার নির্যাতন শুরু হয়। দুটি সন্তানের দিকে তাকিয়ে মিনতি সংসার চুকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে থাকে। নির্যাতন সত্যেও স্বামীকে বোঝানোর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। বুধবার দিন সকালে নির্যাতনের পরিমান এতটা বেড়ে যায় যে সে মারা গেছে ভেবে মার বন্দ করে দেয়। প্রতিবেশীরা সকাল ৬.৩০ টার দিকে মোবাইলে মিনতির মাকে ফোনে জানায় সে মরে গেছে কি বেঁচে আছে জানিনা। আপনারা দ্রুত চলে আসেন। খবর পেয়ে মিনতির মা ও ভাই জামাইয়ের বাড়িতে গেলে জামাই শ্বাশুড়িকেও মারতে যায়। এক পর্যায়ে রক্তাক্ত জখম ও বেহুঁশ মেয়েকে নিয়ে তারা আশাশুনি হাসপাতালে ভর্তি করান। মিনতির মাথা ফেটে গেছে, কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তজমাট বেধে গেছে।  এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে