সাতক্ষীরায় বিশ্ব পর্যটন দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
সাতক্ষীরায় বিশ্ব পর্যটন দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’-এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের যৌথ উদ্যোগে শনিবার সকালে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈনের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ব পর্যটন দিবসের তাৎপর্য ও জেলার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে একটি পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পুলিশ পরিদর্শক শেখ মো. মনিরুজ্জামান। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার। এ ছাড়া সামাজিক বনায়ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ বিল্লাহ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মো. সাকিবুর রহমান বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় পর্যটনশিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জেলায় এ খাত প্রত্যাশিতভাবে বিকশিত হয়নি। সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনশিল্পের প্রসারে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো পর্যটনকেন্দ্র তৈরি প্রয়োজন। তবে পর্যটন এলাকার প্রসারের ক্ষেত্রে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো ও পরিবেশদূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নৌপথে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে দেবহাটা উপজেলার রূপসী ম্যানগ্রোভ এলাকাকে একটি উপযোগী পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হলে সাতক্ষীরার সামগ্রিক অর্থনীতিতে তা বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক। কর্মসূচিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে