পটুয়াখালী সদর উপজেলায় কাজ না করেই এবং অসম্পাদিত কাজের বিপরীতে অতিরিক্ত বিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এলজিইডির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তারা হলেন-সদরের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশার। এ ঘটনায় তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এলজিইডি।
গত ২২ সেপ্টেম্বর এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মেঃ ওয়ালিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগে উল্লেখিত প্রায় ৯১ লাখ টাকা ‘ভূতুরে বিল’ ফেরতের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, দুই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনকালে ঈঅঋউজওজচ প্রকল্পের ড-৩৫/২০২৩-২৪ ও ড-৩৬/২০২৩-২৪ প্যাকেজের সড়ক পুনর্বাসন কাজের তদারকি ও বিল প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কাজের বাস্তব অগ্রগতি ও বিল পর্যালোচনায় কিছু কাজ বাস্তবায়ন না হলেও ঠিকাদারকে বিল দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ড-৩৫ প্যাকেজে ৩ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৫২৭ টাকা এবং ড-৩৬ প্যাকেজে ৯৮ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৪ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়। নোটিশে বাস্তব কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিলের পাশাপাশি ড-৩৫ প্যাকেজে প্রায় ৪৭ লাখ এবং ড-৩৬ প্যাকেজে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা ‘ভূতুরে বিল’ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নোটিশে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হতে পারে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।
এদিকে মো. আতিকুর রহমান বর্তমানে মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী এবং মো. খায়রুল বাশার পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
নোটিশের বিষয়ে পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রকৌশলী (এলইজিডি) খায়রুল বাশারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, নোটিশ পেয়েছি কিনা সেটা আপনাকে জানাবো কেন, বলে ফোন কেটে দেন। অপরদিকে আতিকুর রহমান জানান, যে পরিমাণ কাজ করা হয়েছে ঠিক সেই পরিমাণ বিল দেয়া হয়েছে।