পাহাড়ে সম্ভাবনা বনাম আমাদের সংঘাত: চীনা অভিজ্ঞতা নীলফামারীর হাকীম সবুজ

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
পাহাড়ে সম্ভাবনা বনাম আমাদের সংঘাত: চীনা অভিজ্ঞতা নীলফামারীর হাকীম সবুজ

বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতির কেন্দ্রীয় পরিচালক, উত্তরবঙ্গের পরিচিত মুখ, নীলফামারী থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক নীলচোখ’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হাকীম মোস্তাফিজুর রহমান সবুজের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন। সফরে তাঁরা চীনের কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার অভূতপূর্ব অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেন।

সফরকালে প্রতিনিধি দলটি চীনের শেনইয়াং প্রদেশের পাহাড়ি এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন। সেখানে দেখা যায়, একসময় যা কেবল শুষ্ক কিংবা দুর্গম পাহাড় ছিল, চীনা প্রযুক্তি ও সঠিক ভাবনার মাধ্যমে তা আজ বিশাল অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ি ঢালে সারিবদ্ধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে আপেল, নাশপাতি, কমলাসহ হরেক রকমের সুস্বাদু ও বৈচিত্র্যময় ফলের বাগান। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সেই বাগান পরিদর্শন করেন এবং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

​প্রতিনিধি দলের প্রধান হাকীম মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “চীন কীভাবে পাহাড়কে কাজে লাগিয়ে সম্পদে পরিণত করেছে, তা স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। সেখানে প্রকৃতিকে ধ্বংস না করে সুপরিকল্পিতভাবে ফল চাষের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটানো হয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “চীন যেখানে পাহাড়কে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করেছে, সেখানে আমরা পাহাড়ী ও বাঙালীদের মধ্যে কৃত্রিম বৈষম্য ও সংঘাত বজায় রেখেছি। বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে পর্যটন ও কৃষির যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগানোর বদলে আমরা অনৈক্যের সৃষ্টি করে রেখেছি।

​তিনি আরও অভিযোগ করেন,আমাদের দেশের এই অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও দুর্বল সুযোগটি কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশ পাহাড়ি গোষ্ঠীগুলোকে ইন্ধন যোগাচ্ছে এবং অস্ত্র সরবরাহ করছে। আমাদের সম্ভাবনাময় পাহাড়ি অঞ্চলকে সবসময় অশান্ত ও উত্তপ্ত রাখার পায়তারা চালানো হচ্ছে, যাতে এই অঞ্চলের সম্ভাবনা ভেস্তে যায়।

​সচেতন মহলের মতে, চীনের শেনইয়াং প্রদেশের মতো বাংলাদেশও যদি পাহাড়ি অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেখানে আধুনিক ফল চাষ, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও পর্যটন প্রসার করতে পারে, তবে পার্বত্য অঞ্চল দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। এজন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈষম্য দূরীকরণের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তার দিকে কঠোর নজর দেওয়া জরুরী।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে