বাগেরহাটের চিতলমারীতে এক মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে সরকারি ঘর বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দলুয়াগুনি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল কৃষ্ণ সরকারকে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পের একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী ঘরটি হস্তান্তর বা বিক্রয় যোগ্য নয়। উক্ত ঘরটি বাড়ির জায়গাসহ তিনি বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় চিতলমারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আবাসন নির্মাণ কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তালেব শেখ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল কৃষ্ণ সরকারের পরিবারের কেউ বাড়িতে নেই। রিপন শেখ নামে একব্যক্তি বাড়িটি কিনে বর্তমানে বসবাস করছেন। মুক্তিযোদ্ধা নিবাস নামে বাড়িতে যে নেমপ্লেট ছিলো সেটি তুলে ফেলা হয়েছে। বিমল কৃষ্ণ সরকার টুঙ্গিপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে। এ বিষয়ে ওই বাড়ির ক্রেতা রিপন শেখ জানান, তিনি ৮ শতক জায়গাসহ বাড়িটি কিনে নিয়েছেন। তার কাছে বাড়িটির দলিল রয়েছে বলে দাবি করেন।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আবাসন নির্মাণ কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তালেব শেখ জানান, বিমল কৃষ্ণ সরকারের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল কৃষ্ণ সরকারকে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পের একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল সেটি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। সরকারি বরাদ্দের এসব ঘর বিক্রি করার কোন বিধান নেই।
এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল কৃষ্ণ সরকারকে ফোন করলে তিনি সেটি রিসিভ করে কেটে দেন পরবর্তীতে তার পক্ষ থেকে অন্য একজন ফোন করে জানান তিনি খুবই অসুস্থ আছেন এখন কথা বলতে পারবেন না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা আক্তার জানান, এ বিষয়ে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনাটি তদন্তের জন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।