রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুমারেশ রায়কে নিয়ে অপপ্রচার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কুমারেশ রায়কে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের বিরূপ প্রচারণা চলছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁর ও স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষক, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমারেশ রায় ১৯৯৮ সালে প্রথমবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘ সময়ে তিনি ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ভিজিডি-ভিজিএফের সুবিধা বিতরণ, কর আদায় এবং গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি মহল তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তাঁকে ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কুমারেশ রায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলে তা স্থানীয় শান্তিশৃঙ্খলার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার পাশাপাশি ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাববর হোসেন বলেন, “ইউপি চেয়ারম্যান কুমারেশ রায়ের বিষয়টি আমার জানা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বা স্থানীয় কোনো প্রতিনিধি হুমকি, ভয়ভীতি কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংকটের সম্মুখীন হলে লিখিত অভিযোগ জানালে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে ইউনিয়নের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় ও ইউনিয়নের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।