কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধিভুক্তির এক দফা দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। টানা আন্দোলনের কারণে কলেজে ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাবসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর করে তোলেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, জেলা প্রশাসন ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়া যায়নি। দাবি বাস্তবায়নে লিখিত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এর আগে আন্দোলনের তৃতীয় দিনে প্রশাসনিক ভবনে প্রায় ৩৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অধ্যক্ষসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মুক্তি দেন শিক্ষার্থীরা। তবে মুক্তি দেওয়ার পরও তাদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, অধ্যক্ষসহ শিক্ষকরা ক্যাম্পাসেই অবস্থান করছেন এবং দফায় দফায় বৈঠক করছেন। শিক্ষার্থীরা কলেজের মূল ফটকে তালা দিয়ে রাখায় প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারবেন না। একই সঙ্গে বন্ধ থাকবে কলেজের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকায় তাদের ডিগ্রির মান ও স্বকীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় কলেজটিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা অথবা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত না এলে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।