অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ফাহিম ও তার সহযোগী বহিষ্কার

ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে একই সংগঠনের কর্মীকে নির্যাতন

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে একই সংগঠনের কর্মীকে নির্যাতন

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংষ্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুককে তুলে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের ঘটনায় একই দলের কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের বিতর্কিত সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও সহযোগী যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর)  জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয় টি নিশ্চিত করা হয়েছে। 

যেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। একইসাথে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাদের সাথে কোন সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

উল্লেখ্য উপজেলার মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুককে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর থেকে সাদা পোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যান। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

ফারুকের অভিযোগ, তাকে মোটরসাইকেলে তুলে  কলাপাড়া শহরে নেওয়া হয়। সেখানে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিমের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে দফায় দফায় মারধর করেন। রাত ১টা পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এবিষয়ে মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। উপায় না পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে ফারুক বলেন, আমি তাদের পা ধরে আব্বা বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ-এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি। পরে খবর পেয়ে তার দুই বন্ধু মহিপুর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম শাওন ও রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে দীর্ঘ ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশালে নেওয়া হয় বলে জানান ফারুক। তাকে তুলে নেওয়ার ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে এবং অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পাওয়া গেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন ফারুক। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলেও দাবি করেন। তবে অভিযুক্ত কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদ্য 

তবে ফারুকের অভিযোগ অস্বীকার করে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা গণমাধ্যমকে বলে আসছেন, ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।  মহিপুর থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে