স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেছেন, ভোটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসএসসি পরীক্ষা, পবিত্র রমজান, ধর্মীয় উৎসব ও জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ নির্বাচন ভবনে ইউনেস্কোর (UNESCO) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে আয়োজনের কথা বলেছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, কমিশন এখনো নির্বাচনের সময় চূড়ান্ত করেনি। তবে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের বিষয়টি কমিশনের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হিসেবে থাকবে।
তিনি বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব এসেছে। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সচিব বলেন, জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের যে কথা বলা হয়েছে, সেটি কমিশনের জন্য বিবেচনার একটি বিষয়। ওই সময়ের মধ্যে ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বাকি কার্যক্রম কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা কমিশনকে জানানো হবে। তবে এ মুহূর্তে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, ভোটার তালিকা রয়েছে, নির্বাচনী সামগ্রী রয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রও রয়েছে। এখন মূল বিষয় হলো স্থানীয় বাস্তবতা ও সময়ের বিষয়গুলো সমন্বয় করা। এসএসসি পরীক্ষা, রমজান, ধর্মীয় উৎসব এবং জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এমন একটি সময় নির্ধারণ করতে হবে, যাতে নির্বাচন আয়োজন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হয়।
নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, এটি ভবিষ্যতের বিষয়। একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন সবার প্রত্যাশা। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভালো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই মানদণ্ড ধরে রেখেই পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী যেসব ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেগুলো নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো নির্বাচনের মান আরও উন্নত করা, কমানো নয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
এদিকে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলার বিষয়ও আলোচনায় আসে।
বৈঠকে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচনের সময় তথ্যের সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচার ঠেকাতে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইসি সচিব বলেন, এ ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ কোনো একটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ নয়। নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দক্ষতা বাড়াতে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এর আগে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগে সময় ও প্রস্তুতির বিষয়গুলো চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনা করা হবে।