নির্বাচনে কুড়িগ্রাম থেকে বিএনপি কোনো আসন না পেলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে জেলাটিকে অবহেলা করা হবে না বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, পিছিয়ে পড়া এই জেলার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি কারিগরি সমীক্ষা শেষ হলে আগামী অর্থবছর থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা প্রশাসনের নতুন ভবন উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নতুন প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম উদ্বোধন করেন তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার অগ্রগতি সম্পর্কে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বর্তমানে এ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষার কাজ চলছে। সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর আগামী অর্থবছর থেকেই বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীর দুই পাড়ের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটবে। এর মাধ্যমে তিস্তা নদীকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
কুড়িগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, জেলাটিকে দেশের একটি পশ্চাৎপদ জেলা হিসেবে বিবেচনা করে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। তাই শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান তৈরির জন্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, মানুষের আয় বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থাও তৈরি হবে।
কুড়িগ্রাম থেকে বিএনপির কোনো আসন না পাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে জেলার উন্নয়নকে মিলিয়ে দেখা হবে না। কুড়িগ্রামের মানুষের জন্য নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আসাদুল হাবিব দুলু। তাঁর ভাষ্য, গত ১৭ বছরের শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্রকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছিল। এর প্রভাব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের জমে থাকা অনিয়ম একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। প্রশাসনকে শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। জনগণ ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজারহাট উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম উদ্বোধন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আধুনিক অবকাঠামো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি সেবা পাওয়াও সহজ হবে।
উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সেবা সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। উদ্বোধন শেষে নতুন ভবনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন মন্ত্রী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা পরিষদ প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।