আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবির ৩ শিক্ষকসহ ১১ জন স্থায়ী বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবির ৩ শিক্ষকসহ ১১ জন স্থায়ী বহিষ্কার
ছবি: সংগ্রহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকসহ ১১ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যসচিব ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীও সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।

এ ছাড়া বহিষ্কার করা হয়েছে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম মিয়া এবং এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেনকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, শহীদ আবু সাঈদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের কপি পাওয়ার পর বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হয়। এরপর সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “শহীদ আবু সাঈদের প্রতি সম্মান এবং তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে” এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বিভিন্ন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। ৯ এপ্রিল ২০২৬ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের তথ্য অনুযায়ী, পলাতক অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদ, সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান এবং ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে দেওয়া হয় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।

ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, নিরস্ত্র শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ওপর পুলিশের গুলির ঘটনায় শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা অত্যন্ত নেতিবাচক ছিল। পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, তাঁরা আবু সাঈদকে রক্ষায় এগিয়ে না এসে আক্রমণকারীদের পক্ষ নিয়েছিলেন, যা আইন ও নৈতিকতার লঙ্ঘন।

২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। বর্তমানে ওই স্থানটি ‘শহীদ আবু সাঈদ গেট’ নামে পরিচিত।

আবু সাঈদের মৃত্যুর দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তাঁর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর এবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হলো।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে