ঈশ্বরদীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কৃষক মো. শামীম হোসেনের তিনটি ঘর পুড়ে তার স্বপ্ন সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। ঘরে থাকা নগদ প্রায় এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব মালামাল আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ছয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। শুক্রবার ( ২ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের খারজানী গ্রামে শামীম হোসেনের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, রাতে প্রথমে শামীম হোসেনের গোয়ালঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের আরও দুটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনটি ঘরই আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এ সময় গোয়ালঘরে থাকা গরুগুলো দড়ি ছিঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আসায় গবাদিপশুগুলো রক্ষা পায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শামীম হোসেন জানান, আসন্ন সবজি চাষসহ কৃষিকাজের খরচ মেটানোর জন্য তিনি প্রায় এক লাখ টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন। আগুনে সেই পুরো টাকাই পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, পোশাক ও অন্যান্য মালামালও পুড়ে নষ্ট হয়েছে। আগুন নেভানোর পর স্বর্ণালংকারেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে তাঁর প্রায় ছয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে রূপপুর মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তবে বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় কর্মীদের হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। ততক্ষণে স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলেন বলে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে প্রাথমিক ভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে গোয়ালঘরে থাকা কয়েল থেকেও আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও সঞ্চিত অর্থ হারিয়ে শামীম হোসেনের পরিবার এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও স্থানীয়দেরও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।