প্রয়োজনীয় পৃষ্টপোষকার অভাবে এই উদ্ভাবন মাঝ পথে বাধাগ্রস্ত

জ্বালানি ছাড়া সেচ যন্ত্রের উদ্ভাবক ভুলিয়া পাড়ার ফোনকান

এফএনএস (কেশব কুমার বড়ুয়া; হাটহাজারী, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
জ্বালানি ছাড়া সেচ যন্ত্রের উদ্ভাবক ভুলিয়া পাড়ার ফোনকান

মোহাম্মদ ফোরকান। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ১২ নং চিকনদন্ডী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের খন্দকিয়া  ভুলিয়া পাড়ায় তাঁর বাড়ি।  গ্রামের মরহুম আহামদুল হক ও সায়েরা খাতুনের চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। এইচ সি পাশ করে কর্মতাগিদে মধ্যপ্রচ্যে চলে যায় ১৯৯০ সালে। দীর্ঘ ১৫ বছর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করে  ২০০৬ সালের প্রথম দিকে জন্মভূমির টানে দেশে চলে আসেন। দেশে ফিরে শুরু করেন কৃষি কাজ। তাঁর বাড়ির পূর্ব পাশে পশ্চিম বাথুয়া লালা চন্দ্র বিলে কৃষি কাজের সাথে তিনি পরিবেশ রক্ষার জমির পার্শ্ববর্তী খালের পাড়ে বৃক্ষ রোপণ করেন। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাঁর খালের পাড় লাগানো গাছ গুলো রাতের আঁধার কেটে ফেলে। গাছ কেটি সাবাড় করার সংবাদটি তৎসমযে বিভিন্ন গণমাধ্যম ফলাও করে প্রচারিত হয়েছিল।  কিন্তু তিনি দমে যাওয়া পাত্র নয়। পরে পুনরায় বৃক্ষ রোপণ করেন। রোপিত  বৃক্ষের সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণে জন্য তিনি ২০১৫ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। ২০১৬ সালে বৃক্ষ রোপণ করে  পরিবেশ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় তিনি বৃক্ষ রোপণে ৩য় স্থান অধিকার করে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। চাষাবাদ   করতে গিয়ে সেচ পাম্প ব্যবহার করার সময় তিনি লক্ষ্য করলেন তাঁর সেচ যন্ত্রের জ্বালানি বাবদ বিপুল অর্থ খরচ হয়ে যাচ্ছে। তখন থেকে তিনি জ্বালানি বাবদ অর্থ কিভাবে সাশ্রয় করা যায় সেই চিন্তা করতে থাকে । কারন সেচের জ্বালানি সাশ্রয় করা গেলে চাষাবাদে লাভের পরিমান বৃদ্ধি পাবে। সেই থেকে তিনি জ্বালানি ছাড়া সেচ যন্ত্র উদ্ভাবনের  জন্য গবেষণা শুরু করেন। গবেষণার এক পর্যায়ে পাম্প মেসিন কে আধুনিকায়ান করে একটি মাত্র ব্যাটারি দিয়ে পাম্প মেসিন চালু করে জ্বালানি ছাড়া জমিতে সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এই আধুনিক  সেচ যন্ত্র উদ্ভাবনের  দীর্ঘ প্রায়  ১২ বছর পর তাঁর সফলতা আসে। তিনি জ্বালানি ছাড়া পরিবেশ বান্ধব  এই সেচ পাম্প চালিয়ে পশ্চিম বাথুয়া এলাকায় প্রায় চারশ কানি জমিতে চাষাবাদ করেন। জ্বালানি বিহীন সেচ পাম্প দিয়ে চাষাবাদ করে তিনি সীমাহীন লাভবান হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান। তাঁর উদ্ভাবিত জ্বালানি বিহীন পরিবেশ বান্ধব এই সেচ পাম্প হাটহাজারী উপজেলার বিগত সময়ের কয়েক জন নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা সরোজিন পর্যবেক্ষণ করেছেন। পরিদর্শন কালে কর্মকর্তাগন দেশের স্বার্থে  তাঁর উদ্ভাবনী কাজ চালিয়ে যেতে তাঁকে অনুপ্রেরনা দেন। দেশে জ্বালানি সংকটে তাঁর উদ্ভাবিত এই সেচ পাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন পর্যবেক্ষক মহল। তিনি বলেন তাঁর এই উদ্ভাবন সফল করতে তিনি অনেক সহায় সম্ভল হারিয়েছেন। জ্বালানি বিহীন এই সেচ পাম্প দিয়ে চাষাবাদ করে তিনি অনেক লাভবান ও হয়েছেন।  তাঁর উদ্ভাবিত সেচ পাম্পকে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে  আরো আধুনিকায়ন করতে পারলে সেখান থেকে ৪০ /৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত  বিদ্যূৎ উৎপাদন করে বিদ্যূতের চাহিদা ও পুরন করা  যাবে ও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এজন্য  প্রয়োজনী সরকারি ও বেসরকারি  পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাঁর উদ্ভাবিত এই সেচ পাম্পের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট নিরসনের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে ও তিনি উল্লেখ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে