আগৈলঝাড়ায় প্রতারনা ও আত্মসাৎ মামলা থেকে রক্ষা পেতে মামলার বাদী ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মানবপাচার মামলা দায়ের আভিযোগ। পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্বাক্ষী বলছে পাচারের কোন ঘটনা ঘটেনাই। পারিবারিক শত্রুতার করনে এক বোন অন্য বোনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।
স্থানীয় ও মামলা সুত্রে যানা গেছে, উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের পুর্ব সুজনকাঠি গ্রামের ফজলু মিটের ছেলে সৈয়দ ইমরান হোসেন (৩৭) ও তার স্ত্রী তনিমা আক্তার (২৯)এর কাছ থেকে একই উপজেলার দক্ষিণ সিহিপাশা গ্রামের সামসুল হক সিকদারের ছেলে এরশাদুল হক সিকদার ও তার স্ত্রী সৈয়দা তানিয়া আক্তার জমি বিক্রির বায়না বাবদ পাচ লক্ষ টাকা নগদ গ্রহণ করেন। এরশাদুল ও তানিয়া জমির বায়নার টাকা নিয়ে জমি দলিল করে না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তনিমা আক্তার বাদী হয়ে বরিশাল আদালতে বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।সিআর মামলা নং ২৩২/২০২৫। ওই মামলা থেকে রক্ষা পেতে এবং জমি বায়নার পাচ লক্ষ টাকা আত্মসাতের পায়তারায় সৈয়দ তানিয়া আক্তার বাদী হয়ে দুলাভাই ইমরান হোসেন ও বোন তনিমা আক্তারের বিরুদ্ধে বরিশাল আদালতে একটি মানবপাচার মামলা দায়ের করে।মামলা নং ২৬/২০২৬। এব্যাপারে মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি সৈয়দ ইমরান হোসেন জানান, আমার ভায়রা এরশাদুল হক সিকদারকে ও মামলার তিন নং স্বাক্ষী রিয়াজ আকনকে বৈধ ভিসা দিয়ে কাতারে নেই।তারা দুইজনে বৈধ ভাবে কাতারে প্রায় দুই বছর চাকুরী করে।তারা ছুটিতে বর্তমানে বাংলাদেশে আসে।
এব্যপারে রিয়াজ আকন সাংবাদিকদের জানান ইমরান হোসেন আমাদেরকে বৈধ ভিসা দিয়ে কাতারে নিয়েছিলো। আমরা কাতারে বৈধ ভাবে থেকে চাকুরী করেছি।বর্তমানে আমরা বাংলাদেশে আছি।ইমরানের বিরুদ্ধে তানিয়া আক্তার যে মানবপাচার মামলা দিয়েছে তা মিথ্যা। আমাকে ওই মামালর তিন নাম্বার স্বাক্ষী বানিয়েছে। আমি ইমরানের বিরুদ্ধে আদলতে মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে পারিবো না।মানবপাচার মামলার বাদী তানিয়া আক্তার সাংবাদিকদের জানান, ইমরান আমার স্বামীকে কাতার নিয়ে যে কাজ দেওয়ার কথা সে কাজ দেয়নি।তাই আমি ইমরানের বিরুদ্ধে মানবপাচার মামলা দিয়েছি।
অন্য দিকে অপর আত্মসাৎ মামলার বাদী তানিয়া আক্তার সাংবাদিকদের জানান, আমরা জমির ক্রয় করার জন্য বায়না বাবদ এরশাদুল হককে পাচ লক্ষ টাকা বায়না সরুপ দেওয়া হয়। তিনি জমি দলিল না দিয়ে তালবাহানা শুরু করে। একারনে আমি আদালতে একটি মামলা দায়ের করি।জমি বায়নার টাকা আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মানব পাচার মামলা দিয়েছে।
এব্যপারে আগৈলঝাড়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, আদালত থেকে একটি মামলা থানায় এসেছে আদালতের নির্দেশে মামলাটি এজাহার করা হয়েছে।বর্তমানে মামলাটি তদন্তধীন রয়েছে।