নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে সই, সেভাবেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে সই, সেভাবেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই জাতীয় সনদে নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে স্বাক্ষর হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সনদ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে সংবিধান সংশোধনের কাজ শুধু জুলাই জাতীয় সনদে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বিভিন্ন পক্ষ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রস্তাবও এতে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে সংসদ মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিএনপির নোট অব ডিসেন্টসহ সনদটি যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সংবিধান সংশোধনবিষয়ক কমিটি বিভিন্ন পক্ষের মতামত শুনছে।

তিনি বলেন, “যেভাবে নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটা বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সেটা বহুবার বলেছি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলোকে নোট অব ডিসেন্টের মাধ্যমে আলাদা করে রাখা হয়েছে। তাই নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে সনদ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না। জাতীয়ভাবে যে সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটি যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে।

তবে সংবিধান সংশোধনের পুরো কাজ শুধু জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা বিষয়, বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হবে। এসব বিষয় সমন্বয় করে সংসদে একটি বিল উপস্থাপনের জন্য কমিটি প্রতিবেদন দেবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের বিষয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, উচ্চ আদালতের রায়ের বিষয়গুলো সংবিধান সংশোধনীতে প্রতিফলিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিরোধী দলসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে রাষ্ট্রপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারবেন না, এ বিষয়ে বিশেষ কমিটির সুস্পষ্ট মতামত রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এমনভাবে সংবিধানে রাখা হতে পারে, যাতে কোনো সরকার বা সংসদ চাইলেই সহজে তা বাতিল করতে না পারে। ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থা পরিবর্তন বা বাতিল করতে হলে জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি জানান।

সংবিধান সংশোধনের দাবিতে বিভিন্ন পক্ষের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, লংমার্চ করা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। যে কেউ এ ধরনের কর্মসূচি পালন করতে পারেন। তবে লংমার্চ বা অন্য কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। এর জন্য সংসদীয় ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

জুলাই শহীদ ও আহতদের সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি

বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। এতে শহীদদের মা-বাবা, ভাইসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে মোট ৬৩ জন অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মতবিনিময়ে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং জুলাই যোদ্ধাদের সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি জানানো হয়েছে। জুলাই ঘোষণাপত্রের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংবিধানের উপযুক্ত জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও এসেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষার জন্য ইতোমধ্যে আইন করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই সুরক্ষাকে আরও সাংবিধানিক ভিত্তি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তফসিলের নির্দিষ্ট জায়গায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তির সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত করার দাবি

বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দায়ীদের বিচার দ্রুত করার দাবিও এসেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার ত্বরান্বিত করতে সরকার আন্তরিক বলেও তিনি জানান।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারসহ চলমান মামলাগুলো দ্রুত এগিয়ে নিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সরকার এ বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বিশেষ কমিটির এই বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, শহীদ ও আহতদের সুরক্ষা, দায়মুক্তির বিষয় এবং বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার মতো বিষয়গুলো উঠে আসে। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে