উচ্চশিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিবেশ উন্নত করা এবং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার জ্ঞান দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে যাঁদের ব্যয়বহুল প্রযুক্তি ব্যবহারের সামর্থ্য নেই, তাঁদের জন্য সাশ্রয়ী সমাধান উদ্ভাবন এবং মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার দিকে নজর দিতে হবে।
রোববার গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৬৫৯ শিক্ষার্থীর হাতে ডিগ্রি তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজন পেয়েছেন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) গোল্ড মেডেল এবং ছয়জন পেয়েছেন আইইউটি গোল্ড মেডেল।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার পরিবেশ উন্নত করা এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করার উদ্যোগের সঙ্গেও শিক্ষার্থীদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। অর্জিত জ্ঞানকে দেশের মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে কাজে লাগাতে হবে। এমন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন দরকার, যা বাস্তব সমস্যার সমাধান করবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
আইইউটির সমাবর্তনে ওআইসি ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূমিকার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। ওআইসি সদস্যদেশগুলোর শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পড়াশোনা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যতে গবেষণা, শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।
ওআইসি মহাসচিব ও আইইউটির চ্যান্সেলর ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ তাঁর বার্তায় নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে জ্ঞান প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইইউটির ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী ওআইসি এবং এর সদস্যদেশগুলোর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। আন্তর্জাতিক পরিসরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে আইইউটির ভূমিকা আরও জোরদার করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
এবারের সমাবর্তনে ওআইসির ১৬টি সদস্যদেশের মোট ৬৫৯ শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ১৫৫ জন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ১৪৯ জন, মেকানিক্যাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ১৪৭ জন এবং সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ১২৬ জন ডিগ্রি পেয়েছেন।
এ ছাড়া বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে ৫৭ জন এবং টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন বিভাগ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন।
সমাবর্তনে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী ওআইসি গোল্ড মেডেল লাভ করেন। আইইউটি গোল্ড মেডেল পেয়েছেন আশফাক সিরাজ শুভ, মুহাম্মদ সাফায়াত জামিল, খালিদ হাসান আদর, আদিবা জাহীন, ফারহান লবিব ও তাসফিয়া মাহমুদ। শিক্ষামন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের হাতে মেডেল ও সনদ তুলে দেন।
সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সততা বজায় রাখা, নিয়মিত শেখার অভ্যাস ধরে রাখা এবং অর্জিত জ্ঞান সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ হলেও শেখার প্রক্রিয়া থেমে থাকে না। পেশাগত জীবনে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ। তিনি স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. হোসেন আরাবি নূর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদসহ দেশি-বিদেশি অতিথি, কূটনীতিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবর্তনকে শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা তাঁদের এই সাফল্যের পেছনে পরিশ্রম, পরিবারের ত্যাগ এবং শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
সমাবর্তন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।