সাতক্ষীরায় প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
সাতক্ষীরায় প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে গুরুতর আহত মোজাম মিস্ত্রি (৬২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মোজাম মিস্ত্রি উপজেলার গৌরিপুর গ্রামের মৃত তাহের মিস্ত্রির ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে গোপালপুর এলাকায় পৌঁছালে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন মোজাম মিস্ত্রি। প্রথমে তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে রাতেই সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ভোররাতে তাকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘ চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

নিহতের ছেলে তোফাজ্জল মিস্ত্রির অভিযোগ, প্রতিপক্ষ ইস্রাফিল হোসেনের ছেলে বিল্লাল হোসেন বাবু ও তার সহযোগী হাসান, সাগরসহ ১০-১২ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি বাড়ি ফেরার পথে তার পিতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে পাশের একটি খালের মধ্যে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে পথচারীরা খালের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পেয়ে রাত ১০টার দিকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় সৈনিক লীগের যুগ্ম-আহবায়ক ইস্রাফিল হোসেনকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে শ্যামনগর থানা পুলিশ। ইস্রাফিলের পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই গ্রেপ্তারের নেপথ্যে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিলেন মোজাম মিস্ত্রি। পুলিশকে ব্যবহার করে ইস্রাফিলকে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে-এমন সন্দেহে ক্ষিপ্ত হয়ে ইস্রাফিলের ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা মোজাম মিস্ত্রিকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। হুমকি দেওয়ার মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই তার ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মোজাম মিস্ত্রি তার ওপর হামলায় জড়িতদের নাম-পরিচয় পুলিশকে জানিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে