বাগমারায়

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে সৌদি প্রবাসী নারীর ৪ দিন ধরে অনশন

এফএনএস (বাগমারা, রাজশাহী) | প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে সৌদি প্রবাসী নারীর ৪ দিন ধরে অনশন
প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ের প্রতিশ্রুতি আর ভবিষ্যৎ সংসারের স্বপ্ন সবকিছু ঘিরেই গড়ে উঠেছিল এক নারীর আশা। প্রিয় মানুষটির ওপর বিশ্বাস রেখে ধীরে ধীরে তুলে দিয়েছিলেন নিজের জমানো প্রায় ১২ লাখ টাকা। কিন্তু সেই মানুষটিই এখন যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। অবশেষে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ির সামনে অনশনে বসেছেন সৌদি আরব প্রবাসী লেটিশিয়া বিশ্বাস (২৯) নামের এক খ্রিস্টান নারী। তাঁর দাবি, হয় তাঁকে বিয়ে করতে হবে, নয়তো তাঁর সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতির জবাব দিতে হবে। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার রাড়োপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নীরব হোসেন (২৫) নামের ওই যুবকের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন লেটিশিয়া। বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত তাঁর অনশন চলছিল। তাঁর বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। লেটিশিয়া বিশ্বাসের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে নীরব হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে বিয়ের বিষয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়। নীরবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। সেই বিশ্বাস থেকেই নীরবের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে নিজের উপার্জিত অর্থ ব্যয় করতে থাকেন লেটিশিয়া। অনশনরত এই নারীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নীরব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই অর্থ নীরবের পড়াশোনা, পরিবারের জন্য জমি কেনা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন কেনা, জমি বন্ধক থেকে ছাড়ানোসহ বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে। ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে সংসার হবে এই আশাতেই তিনি অর্থ দিয়েছেন বলে জানান। এই টাকা ব্যাংক হিসাব এবং মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে দিয়েছেন বলেও প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু যে মানুষটিকে ঘিরে এত স্বপ্ন, সেই মানুষটির সঙ্গে গত চার মাস ধরে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই বলে অভিযোগ লেটিশিয়ার। তাঁর ভাষ্য, একসময় নীরব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে নীরবের গোপনে অন্যত্র বিয়ের কথাবার্তা চলছে বলে জানতে পারেন তিনি। এরপরই নিজের পাওনা টাকা ও বিয়ের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে জবাব চাইতে নীরবের বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। লেটিশিয়া বিশ্বাস বলেন, আমি তাকে বিশ্বাস করেছি, ভালোবেসেছি। বিয়ে করবে বলেই তার কথায় এত টাকা দিয়েছি। তার পড়াশোনা থেকে শুরু করে পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজনেও টাকা খরচ করেছি। আমার স্বপ্ন ছিল, একদিন তাকে বিয়ে করে সংসার করব। কিন্তু এখন সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরও কেন আমাকে বিয়ে করবে না, তার জবাব চাই। তিনি আরও বলেন, নীরবই আমাকে তার বাড়িতে আসতে বলেছিল। কিন্তু এখানে এসে দেখি, তার মা দরজায় তালা দিয়ে চলে গেছেন। এখন নীরব ও তার পরিবারের কাউকেই বাড়িতে পাচ্ছি না। শুনছি, সে অন্য জায়গায় বিয়ে করবে। আমি এত কিছু করার পরও কেন এভাবে অবহেলার শিকার হব? আমি নীরবের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চাই। তারা না আসা পর্যন্ত আমি যাব না। হয় সে আমাকে বিয়ে করবে, নয়তো আমি এখানেই অবস্থান করব। জানা গেছে, লেটিশিয়া বিশ্বাস প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে সৌদি আরবে ছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে ফেসবুকের মাধ্যমে নীরবের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাঁর অভিযোগ, নীরবের কর্মস্থলে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এদিকে নীরব ও তাঁর বাবা আজিজুল ঢাকায় পৃথক দুটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বলে জানা গেছে। গত ১১ অক্টোবর থেকে নীরবের বাড়ির সামনে অবস্থান করলেও বুধবার পর্যন্ত তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য যোগাযোগ করেননি বলে দাবি লেটিশিয়ার। অন্যদিকে, তিনি বাড়িতে অবস্থান নেওয়ার পর থেকে নীরব ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাউকেই সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন ওই নারী। লেটিশিয়া বলেন, আমি একজন নারী। এত দূর থেকে এসে এখন অসহায় অবস্থায় পড়েছি। আমি কার কাছে যাব, কীভাবে আমার সমস্যার সমাধান করব, বুঝতে পারছি না। আমি শুধু আমার সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতির জবাব চাই। এ বিষয়ে বাগমারা থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে নীরব হোসেন ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে