দুর্গাপূজা, আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের প্রভাবে ঢাক-ঢোল কারিগরদের দুর্দীন

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ এএম
দুর্গাপূজা, আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের প্রভাবে ঢাক-ঢোল কারিগরদের দুর্দীন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাউৎসব মানেই ঢাক-ঢোলের শব্দ, ধুপের গন্ধ, শঙ্খ-আরতি আর উল্লুধ্বনি, প্রসাদ বিতরণসহ নানা আয়োজন। আর মাত্র একদিন পরেই শুরু হচ্ছে দুর্গা উৎসব। তাই এ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ঢাক-ঢোল ও হারমোনিয়াম তৈরি ও মেরামত কাজের বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার কারিগররা ভুগছে চরম হতাশায়। তবে নুতন অর্ডার না থাকলেও শেষসময়ে এসে ঢাক-ঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র জোড়া-তালি দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এসব শ্রমিকরা। বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজা মন্ডপ আগৈলঝাড়া উপজেলায়। এ উপজেলায় ১৬১টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু উপজেলার ঢাক-ঢোল আর হারমোনিয়াম তৈরীর কারিগরদের নেই তুলনামূলক কাজের চাঁপ।

আগৈলঝাড়া উপজেলা রোডের ঢাক-ঢোল হারমোনিয়াম তৈরি ও মেরামতের কারিগর শ্যামল দাস ও  সুনীল মণ্ডলসহ একাধিক বাদ্যযন্ত্র প্রস্তুতকারীরা এ পেশায় রয়েছেন। এসব ব্যবসায়ীরা বছরের অন্যন্য সময়গুলোতে থাকেন শারদীয় দুর্গাউৎসবে ঢাক-ঢোল, তবলা ও হারমোনিয়াম তৈরীর নতুন অর্ডার ও মেরামত কাজের চাঁপের আশায়।

পুরাতন বাদ্যযন্ত্র মেরামতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের চাঁপ বৃদ্ধির আশায় বাদ্য যন্ত্রের কারিগররা প্রস্তুতি নিলেও ইলেকট্রনিক্স বাদ্যযন্ত্রের প্রভাবে তাদের ব্যবসায় এখন চরম দুর্দীন চলছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের আর মাত্র একদিন বাকি থাকলেও তাদের দোকানে এসব বাদ্যযন্ত্রের চামড়া পরিবর্তন, চাক পাল্টানো, খোল বদল, ছাউনি, নুতন দড়ি-টানাসহ সামান্য মেরামতের কাজ থাকলেও তেমন কোন নতুন অর্ডার নেই বলে জানিয়েছেন তারা। উপজেলা রোডে ৪০ বছর যাবত ঢাক-ঢোল তৈরী ও মেরামতের কারিগর শ্যামল দাস জানিয়েছেন, এবার মাত্র ছয়টি পুরাতন ঢাক মেরামত করেছি। নতুন কোন অর্ডার পাইনি। দুইটি ঢাক মন্দিরে পাঁচদিনের জন্য ভাড়া দিয়েছি। তিনি আরও জানিয়েছেন, নতুন একটি ঢাক তৈরী করতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। কাঠ ও স্টিলের একজোড়া বায়া-তবলায় খরচ হয় সাত হাজার টাকা। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পুরনো ঢাক-ঢোল মেরামতের কাজের ওপর নির্ভর করে আমরা মজুরি নিয়ে থাকি। বর্তমান বাজারে ঢাক-ঢোল তৈরীর চামড়া, চাক, দড়ি, আংটা, ছাউনিসহ অন্যন্য সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারনে এ পেশায় টিকে থাকা এখন কঠিন হয়ে পরেছে।

উপজেলার বাকাল গ্রামের গণেশ মণ্ডলের ছেলে হারমোনিয়াম তৈরীর কারিগর সুনীল মণ্ডল (৬৫) বিগত ২৩ বছর ধরে কাজ করেছেন। বয়সের ভাড় তাকে (সুনীল মণ্ডল) স্পর্শ করতে না পারায় যত্ন সহকারে তিনি নিজে নিপুন হাতে নিখুঁত ভাবে তৈরি ও মেরামত করে চলছেন হারমোনিয়ামসহ অন্যন্য বাদ্যযন্ত্র।

তিনি বলেন, সারা বছর অপেক্ষায় থাকি দুর্গা পূজায় ভালো অর্ডার হবে কিন্তু হারমোনিয়ামসহ অন্যন্য বাদ্যযন্ত্রের দাম বেশী হওয়ায় এবার তেমন কোন অর্ডার পাইনি। আধুনিক ইলেকট্রনিক্স বাদ্যযন্ত্র ভাড়ায় এনে পূজাসহ যেকোন অনুষ্ঠান করার কারণে নতুন করে কেউ এ পেশায় আসতে চাচ্ছেন না। তাই কালের আবর্তে এ পেশার কারিগররা একসময় হারিয়ে যাবে বলেও তিনি (সুনীল মণ্ডল) আশঙ্কা করেছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে