মেহেরপুরের

মুজিবনগর সীমান্তে শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখলেন মেয়ে

এফএনএস (ফারুক আহমেদ; মেহেরপুর) : | প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
মুজিবনগর সীমান্তে শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখলেন মেয়ে

মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মানবিক উদ্যোগে শেষবারের মতো মৃত মায়ের মুখ দেখলেন মেয়ে। এসময় উভয় দেশের আন্ত্রীয় স্বজনদের মাঝে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিকবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সীমান্তের মেইন পিলার ১০৯-এর কাছাকাছি নাজিরা পশ্চিমপাড়া এলাকায় শূন্যরেখায় মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছেন দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা।

মুজিবনগরের নাজিরাকোনা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার গোবিন্দপুর গ্রামের মোছা. জায়রা (৭০) তাঁর নিজ বাড়িতে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।

পরে মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাংলাদেশের মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে বসবাসরত মেয়ে হাফিজা খাতুনকে শেষবারের মতো তার মায়ের মুখ দেখার আকুতি জানান। অপরদিকে ভারতে বসবাস করা আন্ত্রীয় স্বজনরা বিএসএফের কাছে আবেদন করলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনা হয়। পরে বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যদের সমন্বয়ে সীমান্তের মেইন পিলার ১০৯-এর কাছাকাছি নাজিরা পশ্চিমপাড়া এলাকায় শূন্যরেখায় মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

সেখানে উপস্থিত হয়ে মেয়ে হাফিজা খাতুন শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখেন। মায়ের সঙ্গে আর কখনো দেখা হবে এই নির্মম বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। সীমান্তের দুই পাশে আলাদা ভূখণ্ড হলেও মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা যে অভিন্ন, সেই দৃশ্য যেন আবারও তা মনে করিয়ে দেয়। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগরের নাজিরাকোনা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার মো. শরিফুল ইসলামসহ বিজিবির পাঁচ সদস্য। ভারতের পক্ষে ছিলেন বিএসএফের পাথরঘাটা ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর এস কে রয়সহ পাঁচ সদস্য।

মৃতের স্বজনরা জানিয়েছেন, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তারা। সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক পরিস্থিতিতে এমন সহানুভূতিশীল ভূমিকা দুই দেশের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ককে আরও দৃড় করে। সীমান্তের শূন্যরেখায় মায়ের শেষ দর্শন-এই দৃশ্য যেন বার্তা দেয়, রাষ্ট্রের সীমানা আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানবিকতার কোনো সীমানা নেই।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে