শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং পূজার্তি, দর্শনার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সিলেট সীমান্তের ৫৬টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) ও দুটি বেইজ ক্যাম্প থেকে মোট ৩০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
বিজিবি জানায়, সিলেট জেলায় ৬৩৬টি এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ৪৪৪টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। দুই জেলায় মোট পূজামণ্ডপের সংখ্যা ১ হাজার ৮০টি। এর মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১০৯টি পূজামণ্ডপ। এ ছাড়া ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে আরও ৪৩টি পূজামণ্ডপ। সব মিলিয়ে মোট ১৫২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি সিলেট সেক্টর। নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে গুরুসদয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জকিগঞ্জ বেইজ ক্যাম্পে এক প্লাটুন এবং সুনামগঞ্জের বাধাঘাট সরকারি কলেজ বেইজ ক্যাম্পে এক প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
বৃহস্পতিবার সিলেট বিজিবি সদর দপ্তর গনমাধ্যমে প্রেসরিলিজের মাধ্যমে বিজিবি জানায়, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় টহল এবং সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ঝুঁকি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তায় ড্রোন প্রযুক্তি ও কে-৯ ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে কোনো পূজামণ্ডপে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যার তথ্য পাওয়া গেলে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বিজিবি।
উৎসব চলাকালে কোনো সন্দেহজনক ঘটনা, বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন কিংবা বিজিবি ক্যাম্পকে জানানোর জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই না করা তথ্য বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে বিজিবি। নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই-বাছাই করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিজিবিকে সহযোগিতা করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিলেট পুণ্যভূমি হিসেবে সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ ও সম্প্রীতিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। শারদীয় দুর্গাপূজার সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ আয়োজন নিশ্চিত করা সবার সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দমুখর শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপনে বিজিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।