দেশে আশঙ্কাজনকভাবে অপহরণ বাড়ায় সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। সমপ্রতি দেশে বেড়েছে অপহরণের পর হত্যার ঘটনা। তার মধ্যে বেশি ঘটছে শিশু অপহরণের ঘটনা। আর বেশির ভাগ অপহরণ ঘটনায় মুক্তিপণের বিষয়টি থাকে। যথাযথ মুক্তিপণ না পেয়ে কম ঘটছে না হত্যার ঘটনাও। যদিও অপহরণের পর হত্যার পেছনে অন্য কারণও থাকছে। কিন্তু অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। কারণ এরই মধ্যে অপহরণের শিকার হয়েছে অনেক শিশু। এমন পরিস্থিতিতে অপহরণকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আরো বাড়তে পারে সার্বিক অপরাধচিত্র। অপহরণকারীরা লক্ষ্যে থাকা ব্যক্তিকে আগে থেকে অনুসরণ করে এবং সুযোগ বুঝে অপহরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এমনকি অনলাইন অ্যাপ ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং, ব্যাবসায়িক লেনদেনের ছলে কিংবা প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমেও ঘটছে অপহরণের ঘটনা। পুলিশ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে ৬৯১টি অপহরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তার মধ্যে শুধু রাজধানীতেই ১২৯টি অপহরণের ঘটনায় মামলা হয়। অর্থাৎ অপহরণের ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩টি মামলা হয়েছে আর মাসে প্রায় ৮৬টি। সারাদেশে জানুয়ারিতে অপহরণের ঘটনায় ৮৭টি মামলা হয়েছে। তার মধ্যে ঢাকায় হয়েছে ১৪টি মামলা। ফেব্রুয়ারিতে হওয়া ৬৪টি অপরহণ মামলার মধ্যে ঢাকায় ১২টি মামলা হয়েছে। মার্চে ১০২টি মামলার মধ্যে ঢাকায় ২০টি, এপ্রিলে ৯৪টি মামলার মধ্যে ঢাকায় ২১টি, মে মাসে ৯০টি মামলার মধ্যে ঢাকায় ১৩টি, জুনে ৯০টি মামলার মধ্যে ঢাকায় ১৭টি, জুলাইয়ে ৭২টি মামলার মধ্যে ঢাকায় ১১টি এবং আগস্টে ৯২টি মামলার মধ্যে ঢাকায় ২১টি অপহরণ মামলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সারাদেশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ২ হাজার ৩৬২টি হত্যা মামলা হয়েছে। তার মধ্যে শুধু ঢাকাতেই ১৬৮টি হত্যা মামলা হয়েছে। ওই আট মাসে প্রতিদিন গড়ে ১০টি হত্যা মামলা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেযোগ্যসংখ্যক অপহরণের পর হত্যা মামলা রয়েছে। যদিও ধারণা করা হচ্ছে মামলার সংখ্যার চেয়ে প্রকৃত অপহরণের ঘটনা আরো অনেক বেশি। শুধু চলতি বছরই নয়, বিগত ২০২৫ সালেও দেশে এক হাজার ১০২টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তার আগের বছর ওই সংখ্যা ছিল ৬৪২টি। ফলে ওই বছর অপহরণের সংখ্যা বেড়েছে ৪৬০টি; শতাংশের হিসাবে যা ৭১.৬৫। বিগত ২০২৪ সালে দেশে মোট ৬৪২ জন অপহৃত হয়েছিল। ওই বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম ১০ মাসে ৫০১ জন অপহৃত হয়। যা মাসে গড়ে ৫০ জন। অথচ চলতি বছরের একই সময়ে মাসিক গড় বেড়ে ৯২ জনে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, চট্টগ্রামে গত ১০ সেপ্টেম্বর দুর্বৃত্তরা এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে দাবি করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ। গত ৭ সেপ্টেম্বর একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে ওই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয় এবং। পরদিন তাঁর স্ত্রীর মোবাইল ফোন নম্বরে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে হুমকি দেয়া হয়। তার আগে পুরান ঢাকার কদমতলী থেকে একজনকে অপহরণ করা হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা থেকে সাইমুম এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ধারাবাহিকভাবে দেশে অপহরণের ঘটনায় সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে সামাজিক প্রতিশোধ, প্রেম-বিবাদ কিংবা ডিজিটাল যোগাযোগের অপব্যবহার থেকেও ঘটছে অপহরণের ঘটনা।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, অপহরণের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ইতিমধ্যে অপহরণকারীচক্রের অনেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইবার ইউনিট ও ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে পুলিশ সংগঠিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।