বরিশালের উজিরপুরে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ আহমেদ ওরফে সবুজের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনসহ হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী ও অস্থায়ী গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এবং টাকা দেওয়ার প্রমাণ দেখানোর পর এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মিরাজ হোসেন।
এছাড়া সাংবাদিক সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগও উঠেছে সবুজের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) মিরাজ হোসেনের দেয়া লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে উজিরপুর উপজেলায় কম্পিউটার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তার নিকটাত্মীয়দের নামজারি ও মিউটেশনের কাজের জন্য ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানমের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। পরে কাজের অগ্রগতি জানতে গেলে তাকে বারবার ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে কাজ সম্পন্ন করতে টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়।
অভিযোগে মিরাজ দাবি করেন, কয়েক দফায় টাকা দেওয়ার পরেও তার কাজ সম্পন্ন হয়নি। পরে নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগদানের পর যোগাযোগ করলে টাকা ছাড়া কাজ হবে না বলে জানানো হয়। একপর্যায়ে তার কাছে আরও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় এবং সেই টাকা অস্থায়ী গাড়িচালক মো. রাসেল মৃধার কাছে দিতে বলা হয়।
মিরাজ বলেন, আগে টাকা দেওয়ার প্রমাণ তার কাছে রয়েছে জানালে সুরাইয়া খানম সেই প্রমাণ দেখতে চান। পরে তিনি সুরাইয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ পাঠান। এরপর সুরাইয়া খানম ও রাসেল মৃধা তাকে ডেকে নিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। পরবর্তীতে রাসেল মৃধা ও সৈয়দ মাহমুদ আহমেদ ওরফে সবুজের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ হয়। একপর্যায়ে মো. আজিজুল সিকদার নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে ডেকে সবুজের চেম্বারে নেওয়া হয়। সেখানে রাসেল মৃধা ও সবুজ তাকে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করেন। অভিযোগকারীর দাবি, প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা তাকে সেখানে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়, ভিডিও মুছে ফেলতে চাঁপ প্রয়োগের পাশাপাশি হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে তিনি অভিযুক্তদের কাছে ক্ষমা চান বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
মিরাজ হোসেন জানান, এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উজিরপুর মডেল থানা সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। অভিযোগের সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ ও ছয়টি স্থিরচিত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী।
অপরদিকে সবুজের বিরুদ্ধে নিজের দলিল লেখার কার্যালয়ে উজিরপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটির সাইনবোর্ড লাগিয়ে কয়েকজন কথিত সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে প্রভাব বিস্তার এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাংবাদিক সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অনৈতিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সুরাইয়া খানম, রাসেল মৃধা ও সৈয়দ মাহমুদ আহমেদ ওরফে সবুজের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন রিসিফ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানুন বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। লিখিত অভিযোগপ্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।