পাবনায় শিশুকে দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অভিযোগ

ছেলের মুক্তি চেয়ে বাবার সংবাদ সম্মেলন

এফএনএস (খাইরুল ইসলাম বাসিত; পাবনা) : | প্রকাশ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
ছেলের মুক্তি চেয়ে বাবার সংবাদ সম্মেলন

‎পাবনায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ১৪ বছর বয়সী শিশু সঞ্জু মন্ডলকে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছেলের নির্দোষ দাবি করে তার দ্রুত মুক্তি ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বাবা সুজন মন্ডল। অন্যদের নির্দেশে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর ও চুরির ঘটনায় জড়ানো হয়েছে তার ছেলেকে।

‎সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়নে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সুজন মন্ডল। তিনি পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের শানিকদিয়ার গ্রামের তজির মন্ডলের ছেলে।

‎সংবাদ সম্মেলনে সুজন মন্ডল বলেন, তার ছেলে সঞ্জু মন্ডলের বয়স ১৪ বছর। শিশুটির নানাবাড়ি পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের খয়েরসূতি এলাকায়। সেখানে থেকে সে কেঁচি তৈরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত। সঞ্জু মোক্তার হোসেনের একটি কারখানায় কাজ করত।

‎সুজন মন্ডলের অভিযোগ, গত ১৪ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে খয়েরসূতি স্কুলের সামনে হেলাল ডাক্তারের বাড়িতে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তার ছেলেকে ব্যবহার করা হয়েছে। শফিউল ইসলাম সাহা ও মোক্তার হোসেনের নির্দেশে সঞ্জু ওই ঘটনায় জড়িত হয় বলে তিনি দাবি করেন। তাদের কথামতো কাজ না করলে শিশুটিকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‎সুজনের দাবি, ঘটনার পর তার ছেলে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর ও চুরির ঘটনায় শফিউল ইসলাম সাহা ও মোক্তার হোসেনের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছিল।

‎এ ঘটনায় হেলাল ডাক্তার বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় হেমায়েতপুর ইউনিয়নের শিশু সঞ্জু মন্ডল, খয়েরসূতি গ্রামের শফিউল ইসলাম সাহা (৫৬) ও মোক্তার হোসেনকে (৫২) আসামি করা হয়।

‎সংবাদ সম্মেলনে সুজন মন্ডল আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর শফিউল ইসলাম সাহা ও মোক্তার হোসেন গোপনে জামিন নিয়েছেন। অন্যদিকে তার ছেলে সঞ্জুকে বাবা-মাকে না জানিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাকে যশোরের শিশু কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুদিন পর আমি জানতে পারি যে ছেলে যশোরের কারাগারে। উকিলের থেকে শুনেছি ষড়যন্ত্র করতে আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। 

‎আমি যেহেতু ওখানে থাকি না, সেখানে শুধু আমার বউ আর ছেলে থাকে। আমার বউয়ের সহজ সরলতার জন্য তারা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। 

‎সুজন মন্ডলের দাবি হেলাল ডাক্তারের সঙ্গে শফিউল ইসলাম সাহার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর ও চুরির ঘটনায় তার ছেলেকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

‎ঘটনার পর থেকে আমার স্ত্রীকে আমার সঙ্গে কথা বলতে দিচ্ছে না। শশুর বাড়ির লোকজনকেও নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের তিনি শাস্তি দাবি করে নিজের ছেলেকে দ্রুত মুক্তি দাবি করেন তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে