রূপসায় ভূমি অফিসের নায়েব সহ তার দুই সহকারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ

এফএনএস (এম এ আজিম; খুলনা) : | প্রকাশ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
রূপসায় ভূমি অফিসের নায়েব সহ তার দুই সহকারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ

খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. জালাল হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, ঘুষ গ্রহণ এবং ১১ মাসের বেতন না দিয়ে অস্থায়ী কর্মচারীকে জোর পূর্বক অফিস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। লিখিত আবেদনটি করেছেন ভুমি অফিসের নৈশপ্রহরী গরীব অসহায় ও মাজলুম ভুক্তভোগী মো. হাবিবুর রহমান। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, নৈশপ্রহরী হাবিবুর রহমান একজন অসহায় মজলুম গরিব ব্যক্তি। তিনি দীর্ঘ ৬ বছর ২ মাস রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়ন ভুমি অফিসে ঝাড়ুদার কাম নাইট গার্ড পদে অস্থায়ী ভাবে নিয়োজিত ছিলেন। এই অফিসের সাবেক ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আবুল বাসার তাকে ঝাড়ুদার পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ২০২০ সালের ২১ জুন রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে সুপারিশসহ পত্র প্রদান করেন। পত্র নং-৪১৩। সংশিষ্ট কর্মকর্তা তার হাতে নিয়োগ পত্রের কপি প্রদান না করে অফিসে সংরক্ষণ করেছেন। ওই সালের ১ জুলাই সে যোগদান করেন। রাত্রি কালিন অফিস পাহারা দেওয়ার জন্য অফিসের চাবি তার নিকট হস্তান্তর করেন। এই কর্মকর্তা বদলির পর অপর সহকারী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান এবং সাইদ বিশ্বাস একই দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে নির্দেশনা দেন। নির্দেশনা মোতাবেক অসহায় হাবিবুর রহমান দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, হাবিবুর রহমান ২০ সালের জুলাই মাস হতে দৈনিক ১'শ টাকা হারে মাসে ৩ হাজার টাকা বেতন প্রদান করেন। প্রকৃত বেতন মাসে কত টাকা ধার্য হয়েছে তা তিনি অদ্যাবদি জানেন না। এমনকি আনুমানিক তিন বছর যাবত বেতন দিয়ে উপজেলা ভূমি অফিস তার সাক্ষর রাখতেন। পরবর্তীতে আর কোন সাক্ষর রাখেননি। অভাবের সংসারে দৈনিক ১'শ টাকা দিয়ে তার চলা খুবই কঠিন। খেয়ে না খেয়ে জীবন বাঁচিয়ে এবং অফিসে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে আসছিলেন। যা নিয়োগপত্র খানা পরীক্ষা করলেই প্রকৃত বেতন কত হবে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। অফিসের ব্যবহৃত টিউবওয়েলটি বর্তমান সহকারী কর্মকর্তা মো. জালাল হোসেন খুলনা শহরে তার নিজের সম্পতিতে ব্যবহারের জন্য অফিস থেকে নিয়ে যান। নেওয়ার সময়  নৈশপ্রহরী হাবিবুর রহমান বাধা দেয়। কারণ এই মাল খোয়া গেলে তাকে চোর সাব্যস্ত করতে পারে। তারপরও নায়েব টিউবওয়েলটি নিয়ে যান। পরবর্তীতে নায়েব তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে কিছু দিন ব্যবহারের পরে টিউবয়েলটি পূণরায় অফিসে ফেরত দেন।এই বাধার জন্য তার উপর উক্ত কর্মকর্তার ক্ষোভ রয়েছে। হাবিবুর রহমান অসহায় গরিব হওয়ায় পূর্বের সকল কর্মকর্তা গণ অফিসের দক্ষিণ পার্শ্বে পতিত উচু জমিতে  ফসল চাষ করে তা ভোগ করার জন্য অনুমতি দেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলো। পরবর্তীতে শোজুনা গাছও রোপন করে। তাতেও প্রচুর শোজুনা হয়। নায়েব জালাল হোসেন প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য গাছের সমস্ত শোজুনা লোক দিয়ে কেটে ফেলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় সমস্ত শোজুনা অফিস সহ সকলে ভাগ করে নেন অথচ তাকে এক পিচও শোজুনা প্রদান করেননি। এমনকি পতিত এই জমিতে হাবিবুর রহমানের রোপণকৃত গাছের পেপে সম্প্রতি নায়েব জালাল অফিস সহকারীকে দিয়ে পেড়ে নিয়ে যায়। এছাড়া হাবিবুর রহমান ভুমি অফিসের দক্ষিণ পার্শ্বের জলাভূমিতে কিছু মাছ হয়। সেখানে ছোট ছোট কিছু টাকি সহ অন্যন্য ছোট মাছ পাই। যা তিনি নায়েবকে নেওয়ার প্রস্তাব করে। নায়েব জানান তুমি বড় মাছ গুলো গোপন করেছো। তখন হাবিব সত্য কথা বললেও তিনি বিশ্বাস করেননি। কোন মাছ নিলেন না এ কথা বলা মাত্রই অহেতুক তার উপর তিনি খিপ্ত হন। এ ভাবে হাবিবুরকে তাড়িয়ে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র করে।

অফিসে নায়েব জালাল যোগদানের পর অনৈতিক লেনদেন গ্রহণের জন্য দুইজন একান্ত সহকারী ব্যক্তিকে প্রতিনিয়ত অফিসে আসার ব্যবস্থা করে দেন। ব্যক্তি দু'জন মো. রবিউল ইসলাম ও মো. আব্দুর সবুর। যেটি গোপনে অফিস পরিদর্শন করলে এই দুই ব্যক্তির উপস্তিতির প্রমাণ পাওয়া যাবে। অনৈতিক লেনদেন গ্রহণ কালিন ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমানের উপস্থিতি নায়েব এর একেবারেই পছন্দ নন। কারণ এধরণের কর্মকাণ্ড দেখার পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে যদি জানিয়ে দেয়। তাই তথ্য ফাঁসের ভয়ে এই অফিস থেকে হাবিবকে বের করে দেওয়াই একমাত্র কারণ। তাছাড়া অক্টোবরের ২৫ হতে আগষ্টের ২৬ পর্যন্ত ১১ মাস অফিসের কাজে নিয়োজিত থাকার পরও অন্যায় ভাবে তার পারিশ্রমিক ১১ মাসে সর্বমোট ৩৩ হাজার টাকা ভুমি কর্মকর্তা জালাল ক্ষমতা দেখিয়ে তার মত একজন গরিব অসহায় মজলুমের প্রাপ্য পরিশোধ না করে অফিসের চাবি রেখে অফিস থেকে তাকে বের করে দেন। প্রাপ্য ৩৩ হাজার টাকা পরিশোধ সহ অফিস থেকে অন্যায় ভাবে বের করে দেওয়ায় কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নৈশপ্রহরী। অস্থায়ী কর্মচারী হাবিবুর রহমানের দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগের বিষয়টি জানতে রূপসার নৈহাটী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মো. জালাল হোসেনকে সোমবার রাত ৭ টা ৫০ মিনিটে তার ব্যক্তিগত মুঠো ফোনে কল করা হলে ফোনটি তিনি রিসিভ করেন। কিন্তু ফোনটি রিসিভ হয়ে কেটে যায়। পরে বার বার ফোন করা হলেও তার সংযোগটি বন্দ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, এখনও আমি অভিযোগ হাতে পাইনি। তবে অভিযোগ দিয়ে থাকলে তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে