হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১২০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম | প্রকাশ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১২০৪

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২১৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। পাশাপাশি ৪২ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ১ হাজার ২০৪ জন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের একজন করে রয়েছেন। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গযুক্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬৮ জনে। তাঁদের মধ্যে ২৩ হাজার ১৯৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।

এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬১ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ১২৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ১৯৩ জন, চট্টগ্রামে ১০২, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৫, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫১ এবং রংপুর বিভাগে ১৭ জন মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৮৬ জন রয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২৫১ জন, বরিশালে ১২৫, সিলেটে ১১৮, খুলনায় ৯৭, ময়মনসিংহে ৬৩, রাজশাহীতে ৩৩ এবং রংপুরে ২৫ জন ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০৪ জন। এ হিসাবে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২০৪।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। তবে হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সবার হাম পরীক্ষা করা হয় না। ফলে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। মূলত হাসপাতালে আসা ও ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্যের ভিত্তিতেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাব নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে