বিনিয়োগ স্থবিরতা

অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত

এফএনএস | প্রকাশ: ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত

একটি অর্থনীতির প্রাণশক্তি নির্ভর করে বিনিয়োগের গতির ওপর। নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন সমপ্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে ওঠে বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে। কিন্তু বর্তমানে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে পতন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যাশিত গতি না থাকা স্পষ্ট করছে যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। শুধু ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য থাকা কোনো অর্থনীতির সুস্থতার প্রমাণ নয়। সেই অর্থ যদি উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত না হয়, তবে তা অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পারে না। উদ্যোক্তারা যখন নতুন শিল্পে বিনিয়োগের বদলে অপেক্ষার কৌশল গ্রহণ করেন, তখন বোঝা যায় যে বাজারে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিনিয়োগ স্থবিরতার পেছনে জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার, নীতিগত অস্পষ্টতা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধির মতো একাধিক কারণ কাজ করছে। শিল্প খাতের অন্যতম বড় সমস্যা হলো গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চিত সরবরাহ। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চ সুদের কারণে ঋণনির্ভর শিল্প উদ্যোগ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিবর্তে অনেক উদ্যোক্তা বিদ্যমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। প্রতিযোগী দেশগুলো নতুন পুঁজি আকর্ষণে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ প্রত্যাশার তুলনায় কম। এর পেছনে কাঠামোগত দুর্বলতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং দুর্নীতির মতো পুরোনো সমস্যাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে দেশের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অনেক বিনিয়োগকারী সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এই প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব শুধু শিল্প খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যাবে, তরুণদের জন্য নতুন চাকরির সুযোগ সংকুচিত হবে এবং মধ্যবিত্তের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা আরও চাপে পড়বে। অর্থনীতিতে তখন এমন প্রবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে, যার সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হবে না। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেশিল্প খাতের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে আনা, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রকৃত উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণেরও বিকল্প নেই।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে