স্কুলছাত্র অপরতিম হত্যা: তুহিনসহ তিনজন সরাসরি জড়িত, পরিকল্পনায় সিয়াম

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
স্কুলছাত্র অপরতিম হত্যা: তুহিনসহ তিনজন সরাসরি জড়িত, পরিকল্পনায় সিয়াম
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপরতিম (১৩) হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। আর ১৯ বছর বয়সী মো. সিয়াম হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

২০ অক্টোবর পুলিশ এ অভিযোগপত্র জমা দেয়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।

পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অপরতিমের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থেকেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন বনে তাকে নিয়ে যায় তুহিন। সেখানে তার আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে অপরতিম বাধা দেয়। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি বা হাতল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপরতিম। পরদিন সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের নির্জন বন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে কটবাড়ির বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলে পড়ত।

ছেলের খোঁজ না পেয়ে প্রথমে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। পরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করেন তিনি।

তদন্তের অংশ হিসেবে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ তুহিনকে শনাক্ত করে। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের আটক করা হয়। তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপরতিমের মুঠোফোনও উদ্ধার করা হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপরতিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কয়েকজন অভিযুক্ত তার মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।

মামলার দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি গাজীপুরের একটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে। অন্যদিকে তুহিন ও সিয়াম কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছে বলে জানা গেছে।

অপরতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন মুঠোফোন ব্যবসায়ী। তিনি জানান, রাতে দেরিতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি দ্রুত বিচার শেষ করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ ছাড়া দুই আসামির বয়স প্রকৃত বয়সের তুলনায় কম দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে বয়স পুনর্মূল্যায়নের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন অপরতিমের বাবা।

নিহত অপরতিমের মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে