নোয়াখালীর হাতিয়ায় 'মিসেস মহিমা' (৪০) নামের এক প্রসূতি রোগীর চিকিৎসা ও পরবর্তীতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ‘ভুল চিকিৎসার অভিযোগ’ ও ‘অপপ্রচারের’ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সফিউল আলম হাতিয়া আধুনিক হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কতৃপক্ষ । শনিবার দুপুরে (২৪ অক্টোবর) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মেহেদী হাসান হাসপাতালের লিখিত অবস্থান তুলে ধরেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তবে প্রসূতির মৃত্যুর খবর তারা জানতে পারলেও মৃত্যুর সঠিক তারিখ, স্থান বা সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি। এ কারণে মৃত্যুর ঘটনার দায় হাসপাতালের চিকিৎসার ওপর চাপানোকে অমূলক বলে দাবি করা হয়। জানা গেছে,গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রসূতি মহিমাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাতিয়া আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রোগীর স্বজনদের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, উক্ত দিন সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে প্রসূতি ব্যথা শুরু হলে স্থানীয় এক ধাত্রীকে ডাকা হয়। ধাত্রী পূর্বের কোনো আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট না দেখেই প্রসবব্যথা বাড়ানোর ওষুধ প্রয়োগ করেন। পরবর্তীতে শারীরিক জটিলতা তৈরি হয় এবং প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসবের পরিবর্তে গর্ভস্থ শিশুর মাথা আসার আগেই বাম হাত বের হয়ে আসে (যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ঞৎধহংাবৎংব চৎবংবহঃধঃরড়হ বা আড়াআড়ি অবস্থান বলা হয়)। স্থানীয় ধাত্রী হাত ধরে টানাটানি করে প্রসব করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর স্বজনরা রোগীকে প্রথমে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে 'মা-মণি এনজিও'-তে নিয়ে গেলেও সেখান থেকে রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে থেকে রোগীকে নোয়াখালী সদরে রেফার করা হলে ও কোনো উপায় না পেয়ে দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে স্বজনরা প্রসূতিকে সফিউল আলম হাতিয়া আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রসূতিকে আশঙ্কাজনক ও জটিল অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর আবাসিক সার্জন ডাঃ লামিয়া আফরোজ জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। অত্যন্ত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মা ও শিশুর জীবন রক্ষার্থে দ্রুত অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। সিজার করার সময় জরায়ুর বাম পাশে টিউমার দেখা গেলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসক স্বামীকে ডেকে জরায়ু টিউমার দেখান। পরবর্তীতে স্বামীর অনুমতি নিয়ে উক্ত টিউমার অপারেশন করা হয়। পরে রোগীর অবস্থা ভালো থাকায় ৩০ সেপ্টেম্বর রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। আবার ৪ অক্টোবর রোগীকে হাসপাতালে এনে সেলাই কেটে নেয়া হয়। পরবর্তীতে অপারেশন এর ১৫ দিন পর অর্থাৎ ১২ই অক্টোবর রোগীকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ অবস্থায় রোগী বাড়ি ফিরে যায়। এর পর রোগীর অবস্থান কোথায় ছিল তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবগত ছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের এমডি মেহেদী হাসান বলেন, "রোগীর মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমরা তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসা নথির তোয়াক্কা না করে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে সফিউল আলম হাসপাতালের চিকিৎসক বা হাসপাতালকে দোষী সাব্যস্ত করা অন্যায়।" তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্তে বাধা দেবে না। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, চিকিৎসা নথিপত্র (গবফরপধষ জবপড়ৎফং) পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য বিবেচনার জন্য তারা আকুল আবেদন জানান। একই সাথে চিকিৎসা পেশার মর্যাদা ও রোগীর অধিকার রক্ষার খাতিরে অপপ্রচার বন্ধের দাবি জানানো। এদিকে মিডিয়া কর্মীরা ভিকটিমের স্বামীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান পুনরায় রক্ত পাত দেখা দিলে সফিউল আলম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে রোগীকে তারা নোয়াখালী একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেই খানে রোগী মারা যায়।