জামালপুরের মেলান্দহের সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। ৪০/৫০ বছর মেয়াদের টার্গেট নিয়ে প্রতিটি সোলার প্যানেল স্থাপনে ব্যয় হয় প্রায় ৪ লাখ টাকা। পরিবেশ বান্ধব, শব্দদোষণমুক্ত এই সোলার ক্রমেই বৃদ্ধি পাবার আশা করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরণের সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। মাহমুদপুরের আগ পয়লা গ্রামের সোলার প্যানেলের মালিক হাফিজুর রহমান বিএসসি জানান-সোলার পদ্ধতির বিদ্যুৎ বিক্রির জন্য পল্লী বিদ্যুতের সাথে কমপক্ষে ২০ বছরের চুক্তি করতে হয়। এই পদ্ধতিতে নিজের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ শেষে মাসে প্রায় ২ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করছি। এতে বছরে ২ লক্ষাধিক টাকা সাশ্রয়ী হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে দুই বছরের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রি করেই সোলার প্যানেলের পুরো খরচ পুষিয়ে নেয়া সম্ভব। সোলার সিস্টেমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে লাগে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, স্ট্রাকচারসহ আনুসাঙ্গিক বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। এই পদ্ধতিতে বিশেষ সুবিধা হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনে সোলার প্যানেল নষ্ট হয় কম। স্থাপিত সোলার প্যানেলের ৩০ বছর এবং কনভার্টারের ১০ বছরের ওয়ারেন্টি থাকে। সূর্যের আলো থাকে এমন বিল্ডিং কিংবা টিনের ঘরের চালে অথবা খোলা মাঠে মাচা পদ্ধতিতেও সৌর প্যানেল স্থাপন করা যায়। যে ঘরে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়, সেই ঘরটি তাপমাত্রা সহনীয় থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ রক্ষায় বজ্রনিরোধ দন্ড থাকে। সিড়িঘাট তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক মমিন হাজী জানান-সোলার পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ একটু বেশি হলেও, এটি টেকসই, সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব। তবে সরকার উদ্যোগ নিলে আরো সাশ্রয়ীতে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। মেলান্দহ জোনের পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম মোমিনুর রহমান বিশ্বাস জানান-সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী মালিককে রাষ্ট্রপক্ষের পল্লী বিদ্যুতের সাথে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য চুক্তি করতে হয়। পল্লী বিদ্যুতের কারিগরি সহায়তায় সোলার প্যালেনের বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবার অটো সিস্টেম (নেট মিটার) চালু করা হয়। প্রতি তিনমাস পর স্যাটেলমেন্ট পিরিয়ড চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাপ হিসেবে সোলার প্যানেল স্থাপনকারীর ব্যাংক একাউন্ট কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংএর মাধ্যমে অর্থ জমা হয়। সোলার প্যানেল স্থাপনে কারিগরি সহায়তাকারি সোলারাইজড ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আক্তারুজ্জামান জানান-আমরা অর্ধ শতাধিক সোলার স্থাপন করে দিয়েছি। অন্যান্যরাও করে দিচ্ছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সিস্টেমের বৈশিষ্ট হলো, বিদ্যুৎ না থাকলেও দিবা-নিশি বিদ্যুৎ বিল শুন্য করে অফ গ্রিড চালু করা যায়। গ্রাহকের চাহিদা পূরণ শেষে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে অন গ্রিডের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। লোডশেডিং বেকাপ দিতে হাইব্রিড সিস্টেম, শুধু দিনের বেলায় জালানী বিহীন নিরবিচ্ছিন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সোলার সেচ পাম্প চালু এবং ইলেক্ট্রিক্যাল যানবাহন (ভেহিকল) বিদ্যুৎ স্টক সিস্টেমে সুবিধামতো ইভি চার্জিং স্টেশনের মাধ্যম অবলম্বন করা হয়। বিশেষ করে সেচ পাম্পের সোলার মালিক বা কৃষক ভরা মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ শেষে অফ সিজেনের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রির সুবিধাও পাবে। সূধি মহল মনে করেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদেও সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন নিরাপদ এবং বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।