রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যানজট ও সড়ক নিরাপত্তার জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের সহজ ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে এসব অটোরিকশার চাহিদা থাকলেও অবৈধ এই যান নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। প্রধান সড়কে অবাধে প্রবেশ, উল্টো পথে চলাচল, হঠাৎ করে যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা- এসব যেন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে উঠছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে শুধু অভিযান চালিয়ে এ সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। গত ১৯ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, মিরপুর ও হাতিরঝিল এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে অভিযান জোরদার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। সে সময় প্রধান সড়কে এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি অবৈধভাবে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপরও এসব যানবাহনের চলাচল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগস্টের শেষ দিকে ঢাকা-১৩ আসনের বিভিন্ন এলাকায় যানজট ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পর আবারও অভিযান চালানো হয়। সেপ্টেম্বরে কুড়িল চৌরাস্তা এলাকাতেও প্রধান সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সরিয়ে নেওয়ার অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু কোন ভাবেই কমানো যাচ্ছেনা এই অবৈধ যানের দৌরাত্ম্য। অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের অন্যতম কারণ হলো এসব যানবাহনের সংখ্যা ও চলাচলব্যবস্থার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব। পাশাপাশি অবৈধ স্থানে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া এবং বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে চার্জিংয়ের ঘটনাও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে নির্দিষ্ট এলাকার অটোরিকশা সেই এলাকার মধ্যেই চলাচলের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিবন্ধন, আলাদা রং, ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে যানবাহন শনাক্ত করার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। আশা করা যায় এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে অনিয়ন্ত্রিত চলাচল কমানো এবং আইন অমান্যকারীদের শনাক্ত করা সহজ হয়ে উঠবে। তবে পরিকল্পনা ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়; কোন সড়কে কতসংখ্যক অটোরিকশা চলবে, কোথায় চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে এবং নিয়ম ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধ করতে হলে সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে। অভিযান যেন সাময়িক উদ্যোগে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অটোরিকশা নগরবাসীর যাতায়াতের প্রয়োজন মেটাচ্ছে, তাই একে পুরোপুরি সমস্যা হিসেবে না দেখে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। পরিকল্পিত চলাচল, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও চালকদের জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা গেলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি নগরবাসীর ভোগান্তিও অনেকটা কমানো সম্ভব হবে।