ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার মধ্যে ঝিনাইদহ যশোর ও কলীগঞ্জ কোটচাঁদপুর মহাসড়কের প্রায় ১১ কিলোমিটার অংশে বেপরোয়া গতিতে যাত্রীবাহী বাস পণ্যবাহী যান চলাচল এবং সড়কের উপর এবং পাশে অবৈধ ভাবে যানবাহন পার্কিংয়ের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এতে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী, মোটর সাইকেল আরোহী, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও ছোট যানবাহনের চালকদের।
কালীগঞ্জ পৌরবাসীর অভিযোগ,ঢাকা খুলনা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের অতিরিক্ত গতি পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। কালীগঞ্জ পৌরসভার মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহ- যশোর মহাসড়কের প্রায় ৬ কিলোমিটার এবং কালীগঞ্জ কোটচাদপুর মহাসড়কের প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশ রয়েছে। সব মিলিয়ে পৌর এলাকার প্রায় ১১ কিলোমিটার মহাসড়কে প্রতিদিন অসংখ্য দূরপাল্ল্রা এবং যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, মোটর সাইকেল, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকসহ সকল প্রকার যানবাহন চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া ও খুলনা রুটে গড়াই ও রূপসা পরিবহন এবং যশোর থেকে হাসাদাগামী শাপলা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় প্রবেশের পর উচ্চগতিতে চলাচল করে। বিশেষ করে জনবহুল ও ব্যস্ততম সড়কে এসব বাসের বেপরোয়া গতিতে চলাচলে ছোট যানবাহনের চালক ও পথচারীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে,অনেক ক্ষেত্রে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রনীত মোটরযানের গতিসীমা সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০২৪-এ সড়ক ও মহাসড়কের শ্রেনী এবং যানবাহনের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৪ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ১২৫-এর উপবিধি ৪ অনুযায়ী এ নির্দেশিকা প্রনয়ন করা হয়।মোটরযানের গতিসীসা সংক্রান্ত গতিসীমার অনুযায়ী পৌরসভা এলাকার মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে মোটর কার, জিপ, মাইক্রোবাস ইত্যাদি হালকা যাত্রীবাহী মোটরযানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘন্টায় ৪০ কিলোমিটার হবে। বাস, মিনিবাস ইত্যাদির মধ্যে ভারী যাত্রীবাহী মোটরযানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘন্টায় ৪০ কিলোমিটার হবে। ট্রাক, মিনিট্রাক, কাভারভ্যান ইত্যাদি মালবাহী মোটর যানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘন্টায় ৩০ কিলোমিটার হবে। মোটর সাইকেলের সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘন্টায় ৩০ কিলোমিটার হবে।থ্রী হুইলারের সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে চলাচলের অনুমতি সাপেক্ষে ঘন্টায় ৩০ কিলোমিটার। সরকারি ভাবে নির্ধারিত এ গতিসীমাকে বৃদ্ধাঙালী দেখিয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকার মধ্যে থাকা মহাসড়ক চালকরা ইচ্ছামত গতিতে ব্যবহার করছে। যে কারণে প্রতিনিয়ত ছোট বড় প্রানঘাতি দুর্ঘটনা ঘটছে। রূপসা পরিবহনের বেপরোয়া গতির কারণে কালীগঞ্জ পৌরসভার কর্মচারি আব্দুস সামাদ নামের একজন মোটর সাইকেল আরহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকার মধ্যে মহাসড়কের পাশ দিয়ে মোটরযান মেরামতের ওয়ার্কসপ গুলোর দোকান থাকায় রাস্তার উপর অবৈধ পার্কিং করে মেরামত করা হয়। বিশেষ করে মল্লিকনগর, বৈশাখী মোড়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে,শ্রীলক্ষী সিনেমা হলের দুই পাশে, নিমতলা ব্রীজের পাশে, মেইন বাসস্ট্যন্ড ও তার আগে পরে যত্রতত্র সময়পরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাক দাড় করিয়ে রাখা হয়। অখুলনা কুষ্টিয়া যাত্রীবাহী গড়াই এবং রূপসা পরিবহন ঝিনাইদহে ২০ মিনিট সময় অতিবাহিত করে সময়মত যশোর পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত গতি ব্যবহার করে চালকরা। যা দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া কালীগঞ্জ বাসটার্মিনাল থাকা সত্বেও সড়কের উপরেই বাসগুলো দাড়িয়ে যাত্রী উঠানামা করায়। একই সাথে বাসস্ট্যান্ডে সড়কের উপর লেগুনা, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক,রিকশা,ভ্রান সিএনজি মহাসড়ক ঘেঁষে বালুভর্তি টাত দাড়িয়ে থাকে। এসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসন বরাবরই নিরব ভূমিকা পালন করে। কালীগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব ফরিদ উদ্দীন বলেন, কুষ্টিয়া খুলনা ৩৫টি গড়াই, এবং খুলনা- কুষ্টিয়া ৩৫ টি রূপসা পরিবহন প্রতিদিন চলাচল করে যাত্রীসেবা প্রদান করে যাচ্ছে। যশোর থেকে হাসাদা ৮০ টি শাপলা পরিবহন জাতীয় ও অঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করছে। আমরা গড়াই, রূপসা এবং শাপলা পরিবহনের অতিরিক্ত গতি কমতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছি।
বারবাজার হাইওয়ে থানার ওসি জাহানুর আলী বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। পৌরসভা এলাকার মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং এবং যানবাহনের গতিসীমার উপর আমরা অভিযান পরিচালনা করব।
কালীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাদিউজ্জামান বলেন, চলতি অর্থবছরে পৌর এলাকার মধ্যে মহাসড়কে গতিসীমা নির্ধারণ করে সাইবোর্ড দেওয়া হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌর প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে আলাপ আলোচনা করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনকরব। পৌরসভা এলাকারমধ্যে মহাসড়ক ব্যবহারে যানবাহনের গতিসীমা সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপনের ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।