পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফকিরগঞ্জ বাজারের সরকারি দোকানগুলোর বরাদ্দ ও ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে নামমাত্র মূল্যে সরকারি দোকান বরাদ্দ নিয়ে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে এসব দোকান নিজেরা পরিচালনা না করে চড়া মূল্যে অন্য ব্যক্তির কাছে সাব-ভাড়া বা হস্তান্তর করে তাদের নিকট জামানত বাবদ হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজার উন্নয়নের নামে এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে সরকারি ভাবে এসব দোকানঘর বরাদ্দ বা ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ রয়েছে যে, নিয়ম মেনে প্রকৃত ক্ষুদ্র ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের এই দোকানগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বরং এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে দোকানগুলো নিজেদের দখলে নিয়ে অল্প কিছুদিন ব্যবসা করেন। এরপর তারা নিজেরা আর ব্যবসা না করে মোটা অংকের অগ্রিম বা জামানত এবং প্রতি মাসে চড়া ভাড়ার বিনিময়ে অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে দোকানগুলো ংঁনষবঃ (সাব-ভাড়া) বা হস্তান্তর করেছেন। এতে করে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অপরদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকানহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন,
আর নামমাত্র ইজারাদাররা কোনো বিনিয়োগ বা পরিশ্রম ছাড়াই প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।বাজারের একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারে ব্যবসা করতে চাইলেও সরকারি দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা ও প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যের কারণে বরাদ্দ পাই না। অথচ যারা বরাদ্দ পেয়েছেন, তারা নিজেরা ব্যবসা না করে আমাদের মতো গরিব ব্যবসায়ীদের কাছে কয়েকগুণ বেশি ভাড়ায় দোকানগুলো সাব-ভাড়া দিয়েছেন। প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের হুমকি ধামকি সহ্য করতে হয়।"এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি এই সম্পদ তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই এ ধরনের অবৈধ বাণিজ্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ইজারা নেওয়া দোকান অন্য কারো কাছে ভাড়া বা হস্তান্তর করা সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও সংশ্লিষ্ট মহলের নিরব ভূমিকার কারণে এক শ্রেণির অসাধু চক্র পার পেয়ে যাচ্ছে।এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে ভূক্তভোগী ও সচেতন মহল। তারা আরো জানিয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে অবিলম্বে অবৈধ সাব-ভাড়া ও অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা করা হোক এবং প্রকৃত ও অসহায় ব্যবসায়ীদের মাঝে সরকারি দোকানগুলো পুনরায় বরাদ্দ দেওয়া হোক।