২০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলা, আদালতে হাজির হতে হবে নোরা ফাতেহিকে

এফএনএস বিনোদন | প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
২০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলা,  আদালতে হাজির হতে হবে নোরা ফাতেহিকে
ছবি: সংগ্রহীত

সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় সরকারি সাক্ষী হিসেবে বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহিকে তলব করেছেন দিল্লির একটি আদালত। আগামী ২ নভেম্বর তাঁকে রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তৃতীয় সম্পূরক অভিযোগপত্রে নোরাকে ‘এলডব্লিউ-৩’ নম্বর সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলাটির মূল অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, কারাগারে থাকা অবস্থায় নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে র‍্যানব্যাক্সি ওষুধ কোম্পানির সাবেক প্রবর্তক শিবিন্দর মোহন সিংয়ের স্ত্রী অদিতি সিংয়ের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, দিল্লির রোহিণী কারাগারে বন্দি থাকাকালে সুকেশ অদিতি সিংকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, অর্থের বিনিময়ে তাঁর স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনতে পারবেন। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা তদন্ত করে। মামলায় মহারাষ্ট্রের সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনেও অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

এর আগে সুকেশ চন্দ্রশেখর ও তাঁর স্ত্রী লীনা মারিয়া পউলোসের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে নোরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা। তদন্তের অংশ হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁর জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়। পরে তাঁকে মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে সরকারি সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে নোরা তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, সুকেশের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর স্ত্রী সহায়তা করেছিলেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চেন্নাইয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নোরার উপস্থিতি নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল।

সুকেশের সঙ্গে নোরার যোগাযোগ ও উপহার গ্রহণের বিষয়টি নিয়েও অতীতে আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে অভিনেত্রীকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। গত আগস্টে সুকেশের হাতে লেখা একটি চিঠিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে নোরাকে নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ করেন তিনি।

সুকেশের দাবি ছিল, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় বাড়ি কেনার জন্য নোরাকে কয়েক কোটি টাকা দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া দামি প্রসাধনী, বিদেশি ব্র্যান্ডের ব্যাগ ও বিলাসবহুল গাড়িসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়ার কথাও দাবি করেন। তাঁদের কথোপকথনের কিছু হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাও প্রকাশ করেছিলেন সুকেশ।

চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, অভিনেত্রী নাকি জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে সুকেশের সম্পর্ক নিয়ে ঈর্ষান্বিত ছিলেন এবং তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার জন্য তাঁকে উসকানি দিতেন। দিনে একাধিকবার ফোন করে বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য অর্থ চাইতেন বলেও অভিযোগ করেন সুকেশ। তবে এসব অভিযোগ সুকেশের নিজের বক্তব্য, আদালতে সেগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য দেওয়া সূত্রে নেই।

আগামী ২ নভেম্বর (সোমবার) আদালতে নোরার হাজিরার মধ্য দিয়ে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা সামনে আসবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে