সাইবার সুরক্ষা আইন

সাংবাদিকদের উদ্বেগ আমলে নিন

এফএনএস | প্রকাশ: ২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
সাংবাদিকদের উদ্বেগ আমলে নিন

প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর কয়েকটি ধারা সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক, মানহানি ও বুলিং, গুজব ও ভুল তথ্য, এবং ডিজিটাল ডিভাইস তল্লাশি ও জব্দের ক্ষমতা নিয়ে সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। খসড়ার ৮(২) ধারায় শুধু প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নয়, সম্ভাব্য আশঙ্কার ভিত্তিতেও অনলাইন কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের জন্য ‘মানহানিকর’ বা ‘অবমাননাকর’ তথ্যও এর আওতায় আসতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। খসড়ার ২৫ ধারায় অনলাইন যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল, পর্নোগ্রাফি ও শিশু যৌন নির্যাতনের মতো বিষয়গুলোর পাশাপাশি মানহানি, অপমান, হেয়প্রতিপন্ন করা ও বুলিং যুক্ত করার বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। প্রস্তাবিত ২৬(ক) ধারায় সাইবার স্পেসে ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্য’ প্রকাশ বা প্রচারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’, ‘ভুয়া খবর’ বা ‘বিভ্রান্তিকর তথ্যের’ মতো শব্দের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্লাস্টও বলেছে, যাচাই না করা তথ্য মানেই মিথ্যা তথ্য নয়। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতি বা দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নাও হতে পারে। এ কারণে সংগঠনটি ২৬(ক) ধারা বাতিলের সুপারিশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধের সংজ্ঞা স্পষ্ট না হলে এবং কঠোর শাস্তির বিধান থাকলে সাংবাদিকদের মধ্যে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় তৈরি হতে পারে। এর ফলে অনুসন্ধানী ও সমালোচনামূলক সাংবাদিকতায় আত্মনিয়ন্ত্রণ বা সেলফ-সেন্সরশিপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনলাইনে সহিংসতার উসকানি, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, যৌন হয়রানি, প্রতারণা বা পরিকল্পিত ক্ষতি করার মতো অপরাধ দমনে কার্যকর আইনের বিকল্প নেই। কিন্তু সমালোচনা, ভিন্নমত এবং জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকে অপরাধের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না। সাইবার অপরাধের মাত্রা ও ধরন যেভাবে বাড়ছে, তাতে অনলাইন পরিসরে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর আইন অনস্বীকার্য। তবে সেই আইনের সব দিক হওয়া চাই সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছÑঅপরাধের সংজ্ঞায় যেন কোনো ধোঁয়াশা না থাকে। একই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, যেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা না পায়। কেননা এসব ফাঁকফোকর থাকার কারণে যে আইন মানুষের অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়, সেই আইন অনেকের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য বড় অন্তরায় হয়ে ওঠে। কাজেই প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্বেগ আমলে নেওয়া জরুরি।