নতুন বউকে বরণ করার কথা ছিল, বাড়ি থেকে বের হলো বাবার মরদেহ

এফএনএস (মোঃ জাহাঙ্গীর আলম; সেনবাগ, নোয়াখালী) : | প্রকাশ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
নতুন বউকে বরণ করার কথা ছিল, বাড়ি থেকে বের হলো বাবার মরদেহ

নোয়াখালীর সেনবাগে ছেলের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাকে ঘিরে বাড়িতে ছিল আনন্দের প্রস্তুতি। যে গেট দিয়ে নতুন বউকে বরণ করে ঘরে তোলার কথা, সেই গেট দিয়েই শেষ পর্যন্ত বের হলো বাবার লাশ। ছেলের বিয়ের আনন্দঘন মুহূর্ত পরিণত হলো শোকের ঘটনায়। নববধূকে বরণ করার প্রস্তুতির পরিবর্তে পরিবারকে করতে হলো বাবার দাফনের আয়োজন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে মারা যান শাহ আলম (৫৩)। তিনি উপজেলার ৩ নম্বর ডমুরুয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পরিকোট দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ার বলু মুনশিয়ানা বাড়ির বাসিন্দা। এলাকায় তিনি শাহ আলম কন্ট্রাক্টর নামে পরিচিত ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে মাত্র তিন দীন আগে বাড়ি ফিরেছেন শাহ আলমের বড় ছেলে শাহাদাত। প্রায় সাত মাস আগে মুঠোফোনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। বুধবার (৪ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে ছেলের স্ত্রীকে বাড়িতে তুলে আনার কথা ছিল। এ উপলক্ষ্যে বাড়িতে চলছিল নানা প্রস্তুতি। কিন্তু মঙ্গলবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহ আলম। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই বদলে যায় বাড়ির পরিবেশ। রাতেই নববধূকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে শাহ আলমের হৃদ্যন্ত্রের ভালভ প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। গৎ ৩ নভেম্বর তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। প্রথমে তাঁকে মাইজদীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। এরপর অক্সিজেন-সহযোগে অ্যাম্বুলেন্সে বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ খোঁজার সময় তাঁর মৃত্যু হয়। 

স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, মৃত্যুর কয়েক দীন আগে শাহ আলমকে কিছুটা মনমরা দেখা গেছে। তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তায় পারিবারিক ও আর্থিক নানা দুশ্চিন্তার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। পরিবারে কিছু ঋণের চাপ ছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে চিকিৎসকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বুধবার সকাল ৯টায় পরিকোট জামিয়াতুল ইসলামিয়া নুরানি মাদ্রাসা মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ১০টায় পরিকোট দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে