ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনের মধ্যেই প্রশাসনের আশ্বাসে ভাঙ্গায় চলমান কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, আগামী রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি বন্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ জামে মসজিদের সামনে শান্তিপূর্ণ মিছিল শেষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম এ ঘোষণা দেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ভাঙ্গা বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে মিলিত হয়।
ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ থেকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করার প্রতিবাদে স্থানীয়রা কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। সোমবার আন্দোলনের সপ্তম দিনে ভাঙ্গা পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটে। ভাঙ্গা থানা, উপজেলা নির্বাচন অফিস ও হাইওয়ে থানায় হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপির জেলা আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী আন্দোলনের পক্ষে সংহতি জানিয়ে সমাবেশে বলেন, “ভাঙ্গা সবসময় আলাদা আসন ছিল। ২০০৮ সালে এটি ফরিদপুর-৪ এ অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু চলতি বছর নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত চূড়ান্ত তালিকায় দুটি ইউনিয়ন কেটে ফরিদপুর-২ এ যুক্ত করা হয়েছে। আমরা অভিন্ন ভাঙ্গা চাই।” তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে, যার শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের আশ্বাস ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে মানুষের ভোগান্তি বিবেচনায় আন্দোলন স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে দাবি মানা না হলে রোববার থেকে আবারও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।